ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে দেড় কোটি মানুষ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে দেড় কোটি মানুষ

 


ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে দেড় কোটি মানুষ

টাইমস এক্সপ্রেস ২৪
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ বড় ধরনের খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। একই সময়ে ১৬ লাখ শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট (এফপিএমইউ) এবং জাতিসংঘের তিন সংস্থা—এফএও, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএফপি—এর যৌথভাবে করা এক বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।


 ৩৬ জেলায় বিশ্লেষণ

রোহিঙ্গা শিবিরসহ দেশের ৩৬ জেলার ৯ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।


কোন জেলাগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিতে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১৩টি জেলার প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়তে পারে।
জেলাগুলো হলো —
বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বান্দরবান, রাঙামাটি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার।

বিশেষ করে কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা জরুরি অবস্থায় (ধাপ-৪) পৌঁছাতে পারে। এই সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি হতে পারে।


পরিস্থিতির প্রধান কারণ

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান বলেন,

“সমস্যা রয়েছে, তবে আমরা একমত—খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

তিনি জানান,
এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে —

  • অর্থনৈতিক মন্দা

  • জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

  • তহবিলের অভাব

  • স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ঘাটতি

  • এবং খাদ্যবৈচিত্র্যের অভাব।


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ঝুঁকিতে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যসংকট বা জরুরি অবস্থায় পড়তে পারে।


সামগ্রিক চিত্র ও পরিবর্তন

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ধাপ-৩ (সংকট) পর্যায়ে ছিল ১৬টি জেলার এক কোটি ৫৫ লাখ মানুষ।
ডিসেম্বর নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে ১৩ জেলায় এক কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাতে পারে।

তবে কিছু জেলায় যেমন নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট, খাদ্যনিরাপত্তা কিছুটা উন্নত হয়েছে — তারা ধাপ-২ (চাপে থাকা) অবস্থায় উন্নীত হয়েছে।
অন্যদিকে বাগেরহাট নতুন করে ধাপ-৩ অর্থাৎ সংকট তালিকায় যুক্ত হয়েছে।


নীতিনির্ধারকদের মন্তব্য

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের বলেন,

“আইপিসি বিশ্লেষণের ফলাফল বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপকূলীয় সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের।
আমাদের এখনই দ্রুত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে, যেন কেউ পিছিয়ে না থাকে।”

কোন মন্তব্য নেই