৩০ কোটি ডলারের প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে ওয়াই কম্বিনেটরে বাংলাদেশের তিন তরুণের স্টার্টআপ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

৩০ কোটি ডলারের প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে ওয়াই কম্বিনেটরে বাংলাদেশের তিন তরুণের স্টার্টআপ

 


নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24

বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর ওয়াই কম্বিনেটরের ২০২৬ সালের ফল ব্যাচে জায়গা করে নিয়েছে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপ ‘টিলিয়ন’। প্রতিষ্ঠানটির চার সহপ্রতিষ্ঠাতার মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এজেন্টকে আরও নির্ভরযোগ্যভাবে ওয়েবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

টিলিয়নের চার সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন মো. শাহরিয়ার ইসলাম আরহাম, কাজী ফারদিনুল হক, আরমান লুথরা ও আবদুল বাছিত। তাঁদের মধ্যে আরমান লুথরা ভারতীয় এবং বাকি তিনজন বাংলাদেশি।

এআই এজেন্টের কাজ সহজ করার প্রযুক্তি

বর্তমানে এআই এজেন্ট দিয়ে ওয়েবসাইটে লগইন, তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ফরম পূরণ কিংবা বিভিন্ন ওয়েবভিত্তিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার উদ্যোগ বাড়ছে। তবে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক এজেন্ট কাজ করতে গেলে ব্রাউজার সেশন অস্থিতিশীল হওয়া, ওয়েবসাইট লোড হতে দেরি করা এবং মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

টিলিয়ন এসব সমস্যা সমাধানে এআই এজেন্টের জন্য বিশেষ ব্রাউজার অবকাঠামো তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো সেশনে সমস্যা দেখা দিলে অন্য সেশন কাজটি চালিয়ে নিতে পারে। ওয়াই কম্বিনেটরের বর্ণনায় এই ব্যবস্থাকে ‘সেলফ-হিলিং’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্রুটি সামলে নেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন অবকাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন এজেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। বড় পরিসরে তথ্য সংগ্রহ, স্বয়ংক্রিয় কর্মপ্রবাহ এবং নিয়মিত ওয়েব পর্যবেক্ষণের মতো কাজে এটি ব্যবহার করা যায়।

ফোর্ট্রেস নামের ওপেন সোর্স প্রযুক্তি

টিলিয়নের প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি ‘ফোর্ট্রেস’ নামের একটি ওপেন সোর্স ইঞ্জিন। এটি ক্রোমিয়াম ব্রাউজার ইঞ্জিনের ওপর তৈরি। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এআই এজেন্ট যেন মানুষের মতোই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

টিলিয়নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা ফোর্ট্রেস ব্যবহার করছেন। পাইপ ও ডকারের উন্মুক্ত পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রযুক্তিটি এক লাখের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে একটি বড় এআই গবেষণাগার এবং ফরচুন ৫০০ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান।

৩০ কোটি ডলারের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা

একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্রাউজারবেজ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার। তুলনায় টিলিয়নের প্রতিষ্ঠাতা দল মাত্র চার সদস্যের।

টিলিয়নের দাবি, কম্পিউটএসডিকের স্বাধীন বেঞ্চমার্কে তাদের প্রযুক্তি একাধিকবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাউজারবেজকে পেছনে ফেলেছে। তবে এ ধরনের বেঞ্চমার্কের ফল নির্দিষ্ট পরীক্ষার পরিবেশ ও মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করে।

প্রতিষ্ঠাতাদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য

টিলিয়নের চার প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যেকেরই প্রযুক্তি, গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মো. শাহরিয়ার ইসলাম আরহাম বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা ও রোবোটিকসে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পেয়েছেন। কাজী ফারদিনুল হক আগে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে কাজ করেছেন এবং এআই মডেল পরিচালনা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

আরমান লুথরা অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী। জটিল তথ্যপ্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে আবদুল বাছিত জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছেন। এআই গবেষণা এবং ওপেন সোর্স মডেল তৈরিতেও তাঁর কাজ রয়েছে।

এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিনিয়োগ ও গবেষণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই ব্যবহারের অবকাঠামো এবং ডেভেলপার টুলের চাহিদাও বাড়ছে। শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তবে বিভিন্ন কাজ নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে পারে—এমন এআই এজেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে প্রযুক্তি বিশ্বে।

টিলিয়নের সহপ্রতিষ্ঠাতা আবদুল বাছিতের মতে, এআইয়ের পরবর্তী বড় অগ্রগতি হবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যা শুধু তথ্য দেবে না, বরং নির্ভরযোগ্যভাবে কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।

প্রতিষ্ঠাতাদের প্রত্যাশা, তাঁদের প্রযুক্তি সফল হলে মানুষের সময়সাপেক্ষ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের বড় অংশ এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে মানুষ আরও বেশি সময় দিতে পারবে সৃজনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে।

ওয়াই কম্বিনেটরের মতো আন্তর্জাতিক স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটরে জায়গা পাওয়া টিলিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার আরেকটি দৃষ্টান্ত।

কোন মন্তব্য নেই