আজিমপুরে সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশ, বিপাকে ছাত্রীদের আবাসন ও পড়াশোনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেটে থাকা নারী শিক্ষার্থীরা হঠাৎ বাসা ছাড়ার নোটিশ পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নতুন বাসা খুঁজে না পেয়ে অনেকেই মালপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সামনে চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় আবাসনসংকটের পাশাপাশি পড়াশোনা নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি বাসায় বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্য কাউকে সাবলেট বা ভাড়া দেওয়া যাবে না। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট ও ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজিমপুর সরকারি কলোনির একটি ভবনে সাবলেটে থাকতেন ইডেন মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, গত ২২ অক্টোবর তাঁকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে থাকায় ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে তিনি বিপাকে পড়েন। এরপর পরিচিতজনদের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকতে হয়েছে তাঁকে।
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ডিসেম্বরেই তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাসা ভাড়ার সময় দুই মাস আগে নোটিশ দেওয়ার মৌখিক সমঝোতা থাকলেও তা মানা হয়নি।
একই ভবনে সাবলেটে থাকা বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থীও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাসা খুঁজেও উপযুক্ত জায়গা পাচ্ছেন না। এতে তাঁদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ওই শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের আবাসিক হলে আসন না পাওয়ার কারণেই তাঁরা বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আবাসিক হলে আসন বরাদ্দের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত আবাসনের ব্যবস্থা না হলে পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হবে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নির্দেশনা
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েও সেখানে বসবাস না করে অন্য কাউকে সাবলেট বা ভাড়া দেওয়া যাবে না। বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীকে নিজ বরাদ্দকৃত বাসায় বসবাস করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ৩১ অক্টোবরের পরও কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আজিমপুর সরকারি কলোনির ২২ নম্বর ভবন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম জানিয়েছেন, ভবনটিতে সাবলেটে থাকা ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ কেউ একটি কক্ষ ভাড়া দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
সরকারি বাসার অপব্যবহার বন্ধে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের মধ্যে সাবলেটে থাকা শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে পরীক্ষার আগে তাঁদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা কত দ্রুত করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

কোন মন্তব্য নেই