ঝিনাইদহে বাড়িতে ঢুকে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ, চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে নির্যাতন, তাঁর চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগানোর অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নারী রাতে থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
বাড়িতে ঢুকে নির্যাতনের অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি নিজ বাড়িতে ছিলেন এবং তাঁর ছেলে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে এসে তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তির স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে সেখানে আসেন।
নারীর অভিযোগ, তাঁরা মিলে তাঁকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে চুল কেটে দেন এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন করেন।
মায়ের চিৎকার শুনে তাঁর ছেলে ঘুম থেকে উঠে বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলে। পরে ওই নারী স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন।
জমি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, জমি বিক্রি করে তাঁরা বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণ করছেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর স্বামীর টাকায় এসব নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন ওই নারী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাঁদের বাড়িতে এসে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছিল কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রশিদ নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, দলটিতে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাঁর বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে এবং স্থানীয় আরেক ব্যক্তি।
ওসি আরও জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আইনি অবস্থান: মামলায় নাম থাকা মানেই কেউ অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই