শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক
বাজার মূলধনের দিক দিয়ে বতর্মানে দেশের সব থেকে বড় বেসরকারি ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে হটিয়ে শীষর্ স্থানে উঠে এসেছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। শীষের্ থাকা ইসলমাী ব্যাংকের বাজার মূলধন এখন ব্র্যাক ব্যাংকের অধের্ক।
গত ৩০ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবের্শষ লেনদেনের তথ্য পযাের্লাচনায় দেখা যায়, ব্র্যাক ব্যাংকের বাজার মূলধন দঁাড়িয়েছে ৮ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। যেখানে শীষের্ থাকা ইসলামী ব্যাংকের বাজার মূলধন ৪ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের শেষ কাযির্দবসে ইসলামী ব্যাংকের বাজার মূলধন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে সেটা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। এক বছর আগে ইসলামী ব্যাংকে শীষের্ থাকলেও দুই ব্যাংকের বাজার মূলধনের পাথর্ক্য ছিল ৫ শতাংশ।
২০১৭ সালের পর থেকে শরিয়া ভিত্তিক ইসলমী ব্যাংকের মালিকানা এবং পরিচালনায় ব্যাপক পরিবতর্ন আসে। এরপর থেকেই এই উল্টো চিত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভনর্র ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘সম্ভবত মালিকানা পরিবতের্নর বিষয়টি শেয়ার হোল্ডারদের ধাক্কা দিয়েছে। যার কারণে তারা অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এটাই মূল কারণ নয়। আমাদের পঁুজিবাজার একটি বিশেষ শ্রেণি নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের ইচ্ছায় শেয়ার মূল্য ওঠে-নামে। তাদের কাযর্ক্রম স্বচ্ছ না। এই কারসাজিকারীরাই মূল নিয়ন্ত্রক।’
কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসাইন বলেন, বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পেরেছে ব্র্যাক ব্যাংক একটি স্বচ্ছ এবং নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠান। আমাদের পরিচালনা পষের্দ দেশের শীষর্ পেশাজীবীরা রয়েছে। মুনাফার দিক দিয়ে ২০১৫ সালে শীষর্ ১০ ব্যাংকের একটি ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। ২০১৭ সালে প্রথম স্থানে চলে আসে প্রতিষ্ঠানটি। ব্র্যাক ব্যাংকের ৪৫ শতাংশ শেয়ার বিদেশি ক্রেতাদের কাছে। এটাও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
এদিকে, যখন ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে শীষর্ বেসরকারি ব্যাংকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে গত দুই বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন ঘটেছে। গত বছরের জানুয়ারির ২৬ তারিখে লেনদেনে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দর ছিল ৪৭.৮০ টাকা আর ব্র্যাক ব্যাংকের দর ছিল ৬৭.৬০ টাকা। কিন্তু বছর শেষে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর কমে দঁাড়ায় ৩৬.৬০ টাকায়, আর ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়ে দঁাড়ায় ১০৮.৪০ টাকায়।
তথ্য পযাের্লাচনায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের শেষ প্রান্তিকে স্থানীয় কিছু কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের বড় অংকের শেয়ার কিনতে শুরু করে। যা ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিভিন্ন কমিটির প্রধান এবং ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রধানের পদে পরিবতর্ন আনে। গত বছরের প্রথম সপ্তাহে পরিচালনা পষের্দর বৈঠকে এই পরিবতের্নর সিদ্ধান্ত কাযর্কর হয়।
সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় ১৯৮৩ সালে ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিকনা ছিল। তাদের অধিকাংশ এখন স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রি করছে। তাদের কাছে বতর্মানে ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর এসব কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ইসলামী ব্যাংকের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলেন মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কোন মন্তব্য নেই