কোম্পানির পণ্যমূল্য যাচাই করবে এনবিআর
বৃহৎ কোম্পানিগুলো ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে তা সঠিকভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয় কিনা তা যাচাই করার জন্য বৃহৎ করদাতা ইউনিটকে (এলটিইউ) নিদের্শ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোডর্ (এনবিআর)। সংস্থাটির ভ্যাট উইং বলছে, এলটিইউ এখন থেকে ম্যানুফ্যাকচারাসর্ ও ট্রেডাসের্র ঠিক করা পণ্যের মূল্যতালিকা মাঠপযাের্য় গিয়ে যাচাই করবে। এ প্রক্রিয়া অবশ্য ভ্যাট অফিসের নিয়মকানুন মেনেই করা হবে।
এনবিআর তার ভ্যাট কমর্কতাের্দর কাছে জানতে চায়, কোম্পানিগুলোর বাষির্ক অডিটে যে উৎপাদন ব্যয় ধরা হয় তার সত্যতা কতটুকু। তাদের ব্যয় অনুযায়ী তারা আদৌ সঠিক দাম নিধার্রণ করে কিনা।
ভ্যাট কমর্কতার্রা বলছেন, তারা শিগগিরই রাজস্ব বোডের্র ডিউটি এক্সেমশন, ড্রব্যাক অফিসসহ আরও কয়েকটি সংস্থার সহায়তায় কোম্পানিগুলোর সঠিক পণ্যমূল্য যাচাই করতে মাঠে নামবে।
রাজস্ব বোডের্র কমর্কতার্রা বলছেন, এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে গত ২৭ জুলাই এনবিআরের মেম্বার (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) শাহনাজ পারভিনের সঙ্গে রাজস্ব মূল্যায়ন বিষয়ক এক বৈঠকে।
পণ্যের মূল্য ঘোষণাটি ভ্যাটের জন্য খুবই গুরুত্বপূণর্ বিষয়। ঘোষিত মূল্যই ভ্যাটের ভিত্তিমূল্য হিসেবে ধরা হয়।
কমর্কতার্রা বলছেন, ভ্যাট ফঁাকি দেয়ার জন্য অধিকাংশ কোম্পানি তাদের পাইকারি কিংবা খুচরা পণ্যমূল্য যা থাকে তার চেয়েও কম দেখায়। এলটিইউ এখন থেকে মাঠপযাের্য় এটি যাচাই করে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। শুধু তাই নয়. বাজারের প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো সঠিক মূল্য যাচাই করবেন তারা। বিভিন্ন কোম্পানির একই রকমের পণ্যের আলাদা আলাদা দামও যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন কমর্কতার্রা।
ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা তাদের ঘোষিত পণ্যমূল্য ভ্যাট অফিসে জমা দিতে হয়। এটি ভ্যাট পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ীদের সহজ কাজ।
ভ্যাট আইনকে সামনে রেখেই, বড় করদাতা প্রতিষ্ঠান পণ্য ও সেবার বিপরীতে যে মূল্য ঘোষণা করবে, তা যাচাই-বাছাই করে দেখবে এলটিইউ কমর্কতর্রা। এতদিন এলটিইউর আওতাভুক্ত বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য ও সেবার বিপরীতে যে মূল্য ঘোষণা করত, সেটা প্রায় সব ক্ষেত্রে মেনে নিতেন ভ্যাট কমর্কতার্রা। তবে এখন থেকে মূল্য ঘোষণা যাচাই-বাছাইয়ের সময় এলটিইউ কমর্কতার্রা সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বাষির্ক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হবে না বলে জানান এলটিইউ কমিশনার। এলটিইউর এক কমর্কতার্ জানান, এই ধরনের উদ্যোগের ফলে এলটিইউর ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য অজর্ন করা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, চলতি ২০১৮-১৯ অথর্বছরে এনবিআরের ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এলটিইউর ৬০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকার ভ্যাট আদায় করতে হবে। এলটিইউ চলতি ২০১৮-১৯ অথর্বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি রাজস্ব আহরণ করেছে। এ সময়ে এলটিইউ ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে।

কোন মন্তব্য নেই