রাজধানীর ফুয়াং ক্লাবে পুলিশের অভিযান
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ফুয়াং ক্লাবে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ক্লাবটিতে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও ক্যাসিনো চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে তারা অভিযান শুরু করেন।
তেজগাঁও জোনের ডিসি আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ক্লাবটিতে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হয় কিনা, এ বিষয়টি নিশ্চিত হতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযানে এখন পর্যন্ত ক্লাবটিতে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার তথ্য পায়নি পুলিশ। ক্লাবটির একটি বৈধ বার রয়েছে। ওই বারে রেজিস্টারের সঙ্গে লিকারের সংখ্যার সামঞ্জস্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসামঞ্জস্যতা থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানায় সূত্র।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার চারটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ক্লাবগুলো হলো- আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
অভিযানে চারটি ক্লাবেই ক্যাসিনোর সরঞ্জাম পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবৈধভাবে ক্যাসিনো ও জুয়া চালানোর দায়ে এসব তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
এদিন রাতেও গুলশানের তিনটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেন্টারগুলো হলো- লাইভ স্টাইল হেল্থ ক্লাব অ্যান্ড স্পা অ্যান্ড সেুলন, ম্যাঙ্গো স্পা ও রেডিডেন্স সেলুন-২ অ্যান্ড স্পা। অভিযানে ১৬ নারী ও ৩ জন পুরুষসহ ১৯ জনকে আটক করা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র্যাবের হাতে আটক হন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। পরে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র্যাব। এ সময় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক দ্রব্য ছাড়াও নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করার নথি জব্দ করা হয়।
এছাড়া শুক্রবার রাতে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজের কাছে সাত প্যাকেট গন্ধহীন হলুদ রঙের ইয়াবাসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ক্যাসিনোতে খেলার কয়েন, স্কোরবোর্ড ও ৫৭২ প্যাকেট তাস। র্যাবের ধারণা, ক্লাবটি ক্যাসিনো খেলা হত।
একই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লাবেও অভিযান চালানো হয়। তবে ক্লাবটি বন্ধ থাকায় সেখানে থাকা বারটি সিলগালা করে দেন র্যাব সদস্যরা।

কোন মন্তব্য নেই