স্যামসাংয়ের দুই অংকের প্রবৃদ্ধি
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ওন বা ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। এ সময়ের মধ্যে তাদের মোট আয় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়াবে। মেমোরি ও ফাউন্ড্রি চিপের দাম বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার তৃতীয় প্রান্তিকের পরিচালন মুনাফা ও বিক্রয় উপাত্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছে স্যামসাং। চলতি মাসের শেষের দিকে নিট মুনাফার উপাত্ত প্রকাশ করবে তারা।
আগস্টে উন্মোচিত হওয়া গ্যালাক্সি জি সিরিজের ফোল্ডেবল ফোনের চাঙ্গা বিক্রি স্যামসাংয়ের আয়ে প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় মুদ্রার অবনয়নও এতে ভূমিকা রেখেছে।
হাই ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক সং মিয়াং-সিউব জানান, সেমিকন্ডাক্টর ও মোবাইল খাতের ওপর ভর করে ১৭ ট্রিলিয়ন ওন পরিচালন মুনাফা করতে যাচ্ছে স্যামসাং, যা আগের ১৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন পরিচালন মুনাফা পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। ডলারের বিপরীতে ওনের মান কমে যাওয়ায় বিদেশের বাজারে স্যামসাং পণ্যের দাম কম ব্যয়বহুল দাঁড়িয়েছে। এতে বিদেশের বাজারে স্যামসাংয়ের মুনাফার পরিমাণ বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ডলারের বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রার মান ৪০ ওনে দাঁড়িয়েছে।
হানওহা সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকবে স্যামসাং। গত প্রান্তিকে অধিকতর ফাউন্ড্রি অর্ডার পেয়েছে স্যামসাং এবং এ খাত থেকে পরিচালন মুনাফা ১০ শতাংশেরও বেশি বাড়ছে। গ্রাহকদের জন্য কাস্টমাইজ করা সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ করে থাকে স্যামসাংয়ের ফাউন্ড্রি শাখা।
আগস্টে স্যামসাংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান লি জ্যা-ইয়ংয়ের প্যারোলে মুক্তিও কোম্পানিটিতে ইতিবাচক হাওয়া এনেছে। দুর্নীতির অভিযোগে ৩০ মাসের কারাভোগ করেছেন স্যামসাংয়ের এ শীর্ষ কর্মকর্তা। স্যামসাংয়ের শীর্ষ কর্তার মুক্তির মাধ্যমে অবশ্য এ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দেশটির আইনে বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকেন ধনকুবেররা। অবশ্য লির মুক্তির দুই সপ্তাহ পরই ২৪৪ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ এবং ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয় স্যামসাং, যা চলমান করোনা পরবর্তী পুনরুদ্ধার তত্পরতায় দেশটির সহায়তায় আসবে।
গত সপ্তাহে নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম বু-কিইয়াম জানান, উচ্চ পর্যায়ের করপোরেট দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও স্যামসাং ও অন্যান্য চ্যাবল বা পরিবার নিয়ন্ত্রিত বড় কোম্পানিগুলো তাদের কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য নীতিমালার মধ্যে থেকে কোম্পানিগুলো তাদের কর্মপদ্ধতি ও আচরণে পরিবর্তন আনছে।
তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ কোরীয় অর্থনীতির উত্থানপর্বে চ্যাবলদের দ্বারা কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্বিতীয় প্রজন্ম শেষে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের নেতৃত্ব নতুনভাবে চিন্তা করছে এবং তারা জানে কীভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে ও আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সুর মেলানো যায়।

কোন মন্তব্য নেই