প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে ফেঁসে গেছেন দুই কর্মকর্তা - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে ফেঁসে গেছেন দুই কর্মকর্তা



বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে ফেঁসে গেছেন দুই কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন হলেও প্রকল্পের অর্থ বিল-ভাউচার ছাড়া ব্যয়, সেমিনারের আগেই বিল ভাউচার তৈরি করে ব্যয় দেখানো এবং খরচের বিলের সঙ্গে ভাউচার না দেওয়ার মতো ‘গুরুতর অভিযোগ’ প্রমাণিত হয়েছে।


তবে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত নারী কর্মীদের ফোন করে বিরক্ত করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হয়নি। প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) মো. আখতার মামুন প্রকল্পের ফান্ড থেকে সাড়ে ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি তা থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন মোল্লার অফিসের টেবিলের ড্রয়ারে সংরক্ষণ করেন।


এরপর প্রকল্প পরিচালককে ওএসডি এবং মনিটরিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। পরে প্রকল্প অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মনিটরিং অফিসার তার ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য প্রকল্প অফিসে ঢুকতে গেলে তার সঙ্গে সংস্থাটির তিনজন কর্মকর্তা ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় ইমরান হোসেন মোল্লার টেবিলের ড্রয়ার থেকে নগদ ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বিভাগীয় মামলা হলেও প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।


জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, ঘটনাটি গত বছরের অক্টোবর মাসের। অনেকগুলো অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে। তবে তদন্তে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছাড়া বাকিগুলো প্রমাণ হয়নি। কী অভিযোগ ছিল এবং কী প্রমাণ হয়েছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়া প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে সেই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রাখা গুরুতর আর্থিক অনিয়ম। প্রকল্প পরিচালক কত টাকা একসঙ্গে তুলতে পারবেন তার সিলিং দেওয়া আছে। সম্ভবত সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু একসঙ্গে ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন, আবার তা নিজের অ্যাকাউন্টে রাখা এবং পরে তা তুলে প্রকল্প অফিসে মনিটরিং কর্মকর্তার ড্রয়ারে রাখা নিঃসন্দেহে গুরুতর আর্থিক অপরাধ।


চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখেছি তিনি বেশকিছু টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়গুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেখভাল করছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য স্ট্রেনদেনিং দ্য ইন্সপেকশন রেগুলেটরি অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটিং ফাংশন অব বিএসএফএ (এসটিআইআরসি) প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. আখতার মামুনের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। খুদে বার্তায় পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে সাড়া দেননি।


মনিটরিং কর্মকর্তা ইমরান হোসেন মোল্লা বলেন, পিডি স্যার গত বছর ২৭ অক্টোবর আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৯৭ টাকা উত্তোলন করে সেই টাকা তার নিজের নামে ব্যাংক এশিয়ার হিসাবে জমা দেন। পরে সেই টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে আমার কাছে জমা রাখেন। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা বিভিন্ন কাজে খরচ হয়েছে। বাকি ১৮ লাখ টাকা আমি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের কাছে নিজেই জমা দিয়েছি।


কেন এতগুলো টাকা প্রকল্প পরিচালক আপনার কাছে নগদ জমা রাখল, আপনি কি জানতে চেয়েছেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রকল্পের পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য টাকা তুলেছেন। তবে অগ্রিম তুলে ফেলেছেন। তার ড্রয়ার তল্লাশি করে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি টাকা স্বেচ্ছায় জমা দিয়েছি। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে টাকা জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি জানাজানি হলে সংস্থাটির সদস্য (যুগ্মসচিব) মো. ওয়াহেদুজ্জামানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করা হয়। তিনি জানান, তদন্তকালে সেমিনার ও কনফারেন্স খাতে ব্যয় হওয়া ১০ লাখ টাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশিক্ষণ খাতের ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৪০ টাকার মধ্যে শুধু রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ খাতে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে ওই খরচের কোনো বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি। কোনো প্রকার বিল ভাউচার ছাড়া ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছেন। জানাজানি হলে ওই টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তার ড্রয়ারে রেখেছেন। বাকি টাকা প্রকল্প পরিচালক আখতার মামুন ও ইমরান হোসেন মোল্লা আত্মসাৎ করেছেন। ২০ লাখ টাকা তারা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে তুলে নিজেদের কবজায় রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।


এ বিষয়ে আখতার মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শিগগিরই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। তবে ইমরান হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তিনি নাটের গুরু। তাকে শাস্তির আওতায় আনা না হলে আইনের শাসন বলে কিছু থাকবে না। তার কাছে নগদ ১৮ লাখ টাকা যে দিন পাওয়া গেছে সেদিনই তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই