অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসমাস দ্বীপে কাঁকড়ার রাজত্ব, কোণঠাসা মানুষ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসমাস দ্বীপে কাঁকড়ার রাজত্ব, কোণঠাসা মানুষ

 

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসমাস দ্বীপে কাঁকড়ার রাজত্ব, কোণঠাসা মানুষ

অনলাইন ডেস্ক | টাইমস এক্সপ্রেস ২৪

অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত ক্রিসমাস দ্বীপে শুরু হয়েছে লাল কাঁকড়ার বার্ষিক অভিবাসন। প্রায় ১০ কোটি লাল কাঁকড়া বন ছেড়ে প্রজননের উদ্দেশ্যে সাগরের দিকে যাত্রা করেছে। ফলে দ্বীপটির রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, এমনকি স্কুল–অফিসও এখন কাঁকড়ার দখলে।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) এবং ক্রিসমাস দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের তথ্যমতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাতের পরই এই অনন্য ঘটনা ঘটে। লক্ষ লক্ষ লাল কাঁকড়া তখন একযোগে সমুদ্রের দিকে ছুটে যায় ডিম পাড়ার জন্য।

এই সময় কাঁকড়ার ভিড়ে রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো—স্থানীয় বাসিন্দারা এই দৃশ্যকে বিরক্তির নয়, বরং প্রাকৃতিক উৎসব হিসেবে দেখেন।

জাতীয় উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সিয়া জাঙ্কোভস্কি বলেন, “ক্রিসমাস দ্বীপের মানুষ কাঁকড়াদের মূল্য দেন। তাদের যাত্রা প্রকৃতির এক মহোৎসব।”

দ্বীপবাসীরা কাঁকড়াদের পথ মসৃণ রাখতে নিজেদের গাড়িতে কাঁকড়া সরানোর রেকিং যন্ত্র ও লিফ ব্লোয়ার রাখেন। কেউ কেউ সকালে ও সন্ধ্যায় গাড়ি চালানো থেকেও বিরত থাকেন যাতে কাঁকড়ারা নিরাপদে সমুদ্রে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কাঁকড়াদের এই মাইগ্রেশন সম্পূর্ণভাবে চাঁদ ও জোয়ারের গতিবিধির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর চাঁদ যখন শেষ চতুর্থাংশে থাকে, তখন কাঁকড়ারা সূর্যোদয়ের আগে ভাটার টানে ডিম পাড়ে।

জাতীয় উদ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের শুরুর দিকে দ্বীপে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ কাঁকড়া ছিল, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটিতে। ইয়েলো ক্রেজি পিঁপড়ার হুমকি কমাতে মাইক্রো-বোলতা প্রবর্তন করায় কাঁকড়ার সংখ্যা বেড়েছে দ্রুতগতিতে।

ডিম পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই লার্ভা বের হয় এবং এক মাস সমুদ্রে ভেসে থাকে। যদিও অনেকেই মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য হয়, কিছু লার্ভা পরে ডাঙায় ফিরে আসে ক্ষুদ্র কাঁকড়া হয়ে—যারা আবার বড় হয়ে পরের বছর এই প্রাকৃতিক উৎসবের অংশ হয়।

কোন মন্তব্য নেই