বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বিদায়ের আবেগে ভারী সদরঘাট - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বিদায়ের আবেগে ভারী সদরঘাট

 


নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর আবেগে মুখর ছিল সদরঘাট-সংলগ্ন বিসর্জন ঘাট।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা ঘাটে আসেন। শোভাযাত্রা শেষে নৌযানে প্রতিমা তুলে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় অনেককে শেষবারের মতো প্রতিমার সামনে প্রণাম করতে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতে দেখা যায়।

উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বিষাদের অনুভূতি। কয়েক দিনের আনন্দ, প্রার্থনা ও পারিবারিক মিলনমেলার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে আবারও দৈনন্দিন জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নেন তাঁরা।

রাত পর্যন্ত ৫৫টি প্রতিমা বিসর্জন

বিসর্জন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১০টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত ৫৫টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল। তাদের ধারণা, গতবারের তুলনায় এবার ঢাকা মহানগরে এক হাজারের বেশি প্রতিমা বিসর্জন হতে পারে। রাত পেরিয়ে ভোর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলার কথা ছিল।

বিসর্জন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে সদরঘাট এলাকায় তিনটি প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ১৬টি নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রতিটি নৌযানে সর্বোচ্চ ১২ জন ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়।

ভিড় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রতিমা নিয়ে প্রবেশ, নৌযানে ওঠানামা এবং বিসর্জন শেষে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের নৌযানে না ওঠার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নদী ও সড়কে বাড়তি নিরাপত্তা

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বুড়িগঙ্গা নদী ও সদরঘাট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। নদীপথে টহলের পাশাপাশি আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিসর্জন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীপথে নিরাপত্তা তৎপরতা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা ছিল। প্রতিমা বহনকারী শোভাযাত্রার চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং ঘাটে মানুষের ভিড় সামলাতে স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করেন।

বিদায়ের মধ্যেই আগামী বছরের অপেক্ষা

বিসর্জনের সময় ঘাটজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। কেউ হাত জোড় করে দেবীকে বিদায় জানান, কেউ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে শেষ মুহূর্তটি উপভোগ করেন। প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘাট থেকে ফিরে যাওয়ার সময় অনেকের চোখেমুখে ছিল মন খারাপের ছাপ।

তবে এই বিদায়ের মধ্যেই রয়েছে নতুন করে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা। আগামী শরতে আবারও দেবীকে বরণ করা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং পরিচিত উৎসবের পরিবেশে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকেন ভক্তরা।

বুড়িগঙ্গার ঘাটে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম চলতে থাকে। ঢাকের শব্দ, প্রার্থনা আর ভক্তদের আবেগঘন বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রেখে যায় উৎসবের স্মৃতি, মিলনের আনন্দ এবং আগামী বছরের প্রত্যাশা।

কোন মন্তব্য নেই