রাজশাহীতে দশ বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাদশা
সরকারের চলমান উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনে নৌকার পক্ষেই থাকতে হবে। দেশে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আবারো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমাদের প্রজন্মের সন্তানরা যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেজন্য সবায়কে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর একটি কনফারেন্স কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ফজলে হোসেন বাদশা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত উন্নয়ন ও আগামীতে চলমান কাজগুলি বাস্তবায়ননের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা জরুরি। যেমন পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রসহ অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য এ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষেই থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চলমান সরকারকেই ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে নতুন প্রজন্মও শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি আস্থাশীল। তারাও শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে রয়েছে। তারা উন্নয়নের পক্ষে রয়েছে। তারণ তরুনরা এদেশের ভবিষ্যত উপলদ্ধি করতে পারে। তিনি বলেন আমাদের তরুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সচেস্ট থাকবে।
বাদশা বলেন, তিনি বলেন স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এখনো সজাগ রয়েছে। তারা জঙ্গীবাদ ছড়িয়েছে। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। তারা চেয়েছিলো এদেশের নেতৃত্ব শূণ্য করতে। সর্বশেষ বুধবার পর্যন্ত তারা ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। নয়া পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে তারা। সংলাম হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। তারাও ভোটে আসার ঘোষণা দিয়েছে তখন নির্বাচন বানচালের জন্য তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। কারণ তারা চায় না গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হোক। তারা (বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট) চায় সকলের অংশগ্রহন মুলক নির্বাচন তাদের পছন্দ নয়। কারন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ^াস করে না। তারা অসাংবিধানিক সরকারের পক্ষে। তারা চায় কোনোভাবে অগণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। যেভাবে জিয়াউর রহমান করেছিলেন।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বিএনপি জামায়াত যেভাবে ক্ষমতায় আসার জন্য উন্মাদ হয়ে ধংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের শক্তভাবে দাড়াতে হবে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। এ নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে না।
এসময় বাদশা রাজশাহীসহ সারাদেশে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফজলে হোসেন বাদশা।
এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মাগুরা থেকেই নির্বাচনে কারচুপির মেকানিজম শুরু হয়েছিল। আগামী সংসদ নির্বাচনে যারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছেন, তারা আয়নায় নিজেদের মুখ দেখেন। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আমি আশা করছি, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সে নির্বাচন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিতও হবে।
এমপি বাদশা বলেন, দুই দফায় এমপি থাকাকালে তিনি রাজশাহী সদরের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমপি বাদশা বলেন, রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর জন্য আমি চেষ্টা করেছি। এজন্য পাঁচ তারকা হোটেল প্রয়োজন। কিন্তু রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা এগিয়ে না আসার কারণে তা সম্ভব হয় নি। আগামীতে নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুসহ অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
এসময় রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু ও নগর সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই