রাত পোহালেই ভোট উৎসব দিয়ে দিন শুরু হবে চট্টগ্রামবাসির। - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

রাত পোহালেই ভোট উৎসব দিয়ে দিন শুরু হবে চট্টগ্রামবাসির।


একাদশ সংসদ নির্বাচন আগামীকাল রোববার। মাঝখানে একটি দিন। তারপর রাত পোহালেই ভোট। প্রচার-প্রচারণা শেষ। পুরো দেশের নজর ভোটের দিকে। এখন শুধু ভোটের জন্য অপেক্ষা।
দলগুলোর অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ছাপিয়ে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা বলছে সবাই। সব দলের প্রার্থী, ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চলছে ভোটের নানা হিসাব-নিকাশ।
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনসহ দেশের ২৯৯ আসনে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা চলবে ভোট গ্রহণ। ভোটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শেষ। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও কর্মব্যস্ত ছিল জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। এরই মধ্যে ব্যালট বক্সসহ ভোটের অন্যান্য সরঞ্জাম উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে। আজ শনিবার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন আজাদীকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ সকল নির্বাচনী সামগ্রী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে গেছে। শনিবার দুপুর থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে চলে যাবে। এবার কোনো কেন্দ্রই আমরা আলাদাভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করিনি। সবগুলো কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি
কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর ৫ স্তরের ফোর্স থাকবে। রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট। প্রতি দুই আসনে দেওয়া হয়েছে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল টিম। অপরদিকে ৭৪ জন নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। আমি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন। মানুষের জানমালের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে ১৬ নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের জাতীয় পার্টি, জাসদ, তরিকত ফেডারেশন, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, গণফোরাম, কমিউনিস্ট পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র মিলে এখন ভোটের মাঠে ১১৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মাহমুদ চৌধুরী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনের মীর ইদ্রিসও সরে দাঁড়িয়েছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান আজাদীকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের বাকি আর মাত্র একদিন। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ৩৭ হাজার ৪৪০ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছেন। প্রতিটি আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যালট বঙসহ ভোট গ্রহণের অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে শনিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।


তিনি জানান, চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। কোতোয়ালী আসনে মোট ১৪৪টি কেন্দ্রের ৭২৫টি কক্ষের জন্য ৯২০টি ইভিএম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণে কোনো ইভিএমে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক আরেকটি ইভিএম চালু করা হবে। অন্য ১৫টি আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৫ সংসদীয় আসনের জন্য ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৪টি ব্যালট এসেছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে ভোটারের সমপরিমাণ ব্যালট নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে চট্টগ্রামে ১৬ আসনে ভোট গ্রহণের জন্য ৩৭ হাজার ৪৪০ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছেন। নির্বাচনের দিন চট্টগ্রামে মোট ১৮৯৯টি ভোট কেন্দ্র ও ১০ হাজার ৬৮৩টি বুথে (ভোট কক্ষ) সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন তারা।
প্রতীক বরাদ্দের পর গত ১০ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছিল। সেই সুযোগ শেষ হয়েছে গতকাল সকাল ৮টায়। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন প্রার্থীরা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের তথ্য : একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৮ নভেম্বর। প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ছিল ১০ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয় প্রচার-প্রচারণা।
চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী আসনসহ দেশের ৬টি আসনে এবার ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে। বাকি ২৯৩টি আসনে ভোট হবে সনাতন পদ্ধতিতে ব্যালট পেপার ব্যবহার করে। ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় ট্যাঙি ক্যাব, বেবিট্যাঙি/অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিনবোট ও স্পিডবোট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে শনি থেকে সোম তিন দিন।


কোন মন্তব্য নেই