পর্যটকশূন্য কক্সবাজার
ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাবেশ ঘটত সাগরপাড়ের শহর কক্সবাজারে। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে দেশের প্রধান অবকাশযাপন কেন্দ্র কক্সবাজার এখন পর্যটক শূন্য বলা যায়। এবারই প্রথমবারের মত থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে নেই কোন আয়োজন। তবে নির্বাচনের পর নতুন বছরের শুরু থেকে কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনের কারণে গত ৪/৫ দিন ধরে প্রায় পর্যটক শূন্য কক্সবাজার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কারণে গতকাল শুক্রবার থেকে চারদিনের জন্য সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলও বন্ধ। সমুদ্র সৈকত, হোটেল-মোটেল ও বিপণী কেন্দ্রগুলো এখন নিষ্প্রাণ। অথচ প্রতিবছর এই সময়ে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসে লাখো পর্যটকের মিলনমেলা।
এ বিষয়ে ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টোয়াক বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে গত ৪/৫ দিন ধরে কক্সবাজারে কোন পর্যটক নেই বললেই চলে। তার উপর শুক্রবার থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল চারদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় কক্সবাজার এখন পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে। বলা যায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পই এখন বন্ধ।’
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান কোম্পানি জানান, প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এই সময়ে শহরের চার শতাধিক হোটেলে কোন কক্ষ খালি পাওয়া যেত না। আর এখন কোনো কক্ষেই অতিথি নেই। এ কারণে হোটেলের বয় বেয়ারাদেরও আপাতত ছুটি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
পর্যটক শূন্য থাকায় সাগরপাড়ের হোটেল-মোটেল জোন এলাকার ২ শতাধিক রেস্তোরাঁও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। একই কারণে সাগরপাড়ের অধিকাংশ দোকানপাটও এখন বন্ধ। এ নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবার সমুদ্র সৈকতে কোন কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়।
ইংরেজি বছরের শেষ দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিনটি কক্সবাজার পর্যটক শূন্য গেলেও নির্বাচন পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে নতুন বছরে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসবেন বলে প্রত্যাশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীগণ।

কোন মন্তব্য নেই