দুটি কেন্দ্রে বিএনপির হামলায় নিহত ২ আবু হেনার ভোট বর্জন
সকাল থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীত অনুভূত হলেও রাজশাহীর ভোটারদের দমাতে পারেনি প্রকৃতি। সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যনীয়। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় কিছু সহিংসতা, সংঘর্ঘ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী শহর ও জেলার ৬ টি সংসদীয় আসনে। ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপি-জামায়াতের হামলায় রাজশাহীর তানোর ও মোহনপুরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী নিহত হয়েছে।
রাজশাহীতে সকালে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বিভিন্ন কেন্দ্রে। কেন্দ্র দখল, নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থীরা। কেন্দ্র দখলের উত্তেজনায় প্রাণ গেছে দুইজনের। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে নিহত দুজনই আওয়ামী লীগের কর্মী।
শীত উপেক্ষা করে রাজশাহীতে ভোটগ্রহণ শুরু হয় যথারীতি সকাল ৮টা থেকে। সকাল থেকে কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেন ভোট দেওয়ার জন্য। রাজশাহী মহানগরী জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটকেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সকাল সকাল রাজশাহীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর তেরোখাদিয়া স্টেডিয়াম কেন্দ্র, গার্লস গাইড কেন্দ্র, উপশহর কামারুজ্জামান কলেজ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট স্কুল কেন্দ্র থেকে শুরু করে নগরীর সবগুলো ভোটকেন্দ্রেই সকাল সকাল ভোটারদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট দিয়েন ভোটাররা। শহরের বাইরে জেলার তানোর, পবা, বাগমারা, পুঠিয়া ও বাঘা-চারঘাটের বিভিন্ন কেন্দ্রে সরেজমিন হিয়ে দেখা যায় ভোটারদের লম্বা লাইন। বেলা ১১ টার দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা শ্রীপুর ইউনিয়নের রামগুইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় নারী ও পুরুষ ভোটারদের পৃথক লম্বা লাইন। এ কেন্দ্রে ২৮০০ ভোটারের মধ্য ৬০ ভাগের বেশী ভোট পড়ে ১১ টার মধ্যে। জেলার অন্য কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়।
নগরীর গার্লস গাইড কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে তসলিমা বেগম বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব সুন্দর মনে হচ্ছে। কোনো ভয়ভীতি প্রদান করা হয়নি। সবাই সুন্দর পরিবেশেই ভোট দিচ্ছে দেখলাম।’ নার্গিস খাতুন বলেন, ‘সকালে ভোট দিয়ে গিয়ে বাড়ির সদস্যদের জন্য নাস্তা তৈরি করবো। তাই সকাল সকাল ভোট দিতে আসা। তবে পরিবেশ সুন্দর আছে।’
নগরীর উপশহর স্যাটেলাইট কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে আজমল হোসেন বলেন, সকাল সকালই আমি বরারবই ভোট দিই। এবারো দিলাম। পরিবেশ তো ভালোই মনে হচ্ছে। আশা করছি দিনভর এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
তবে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রাজশাহী-২ আসনের ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু নিজের ভোট দিতে এসে বলেন, ‘নির্বাচন হচ্ছে প্রহসনের, কিছু করার নাই, মাঠে আছি থাকবো। আমাদের ওপর যত অত্যাচার-নির্যাতনই হোক না কেন, আমরা নির্বাচনের শেষ দেখবো।’ সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মিনু অভিযোগ করে জানান, শনিবার গভীর রাতে বিএনপির ৩৯ জন পোলিং-এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা নগরীর বুলনপুরের জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটপ্রদান করেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, রাতে আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদী কায়দায় মিনুর লোকজন ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে। আমি ভোটারদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
তানোর ও মোহনপুরে দুইজন নিহত: রাজশাহীতে ভোটকেন্দ্র দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রাজশাহী-১ আসনের তানোরে মোদাচ্ছের আলী (৪০) ও রাজশাহী-৩ আসনের মোহনপুরে মেরাজুল ইসলাম (৩২) নামের দুইজন নিহত হন।
তারা দুজনই আওয়ামী লীগ কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
রবিবার দুপুর ১২টার দিকে তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মোদাচ্ছের আলী নিহত হন। নিহত মোদাচ্ছের আলী মোহাম্মদপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোরশেদ আলী মৃধা জানান, ঘটনার পরে ভোটগ্রহণ কিছুক্ষণ স্থগিত ছিল। পরে আবার সেখানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, মোদাচ্ছের আলী ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ করেই জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের এলোপাথারি মারতে থাকে। এসময় লাঠির আঘাতে মোদাচ্ছের আলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে রাজশাহীর মোহনপুর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহত মেরাজুল ইসলাম (৩২) উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি ভোট দিতে যান। এসময় হঠাৎ করেই একদল যুবক প্রথমে থাকে গুলি করে, এরপর হাসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক খান জানান, সকালে মোহনপুরের পাকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় মেরাজুল ইসলামের উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আয়েন উদ্দিন দাবি করেছেন, নিহত মেরাজুল আওয়ামী লীগের কর্মী।
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন: রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু হেনা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন। নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে আবু হেনা বলেন, তার এলাকায় কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের উৎসব চলছে। নৌকার সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থকদের কেন্দ্রে ঢুকতে দিচ্ছে না। সাধারণ ভোটারদেরও জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। হানাহানি বন্ধে তিনি নির্বাচন বর্জন করছেন।
তিনি বলেন, ভোট বর্জনের সিদ্ধান্তের কথা তিনি প্রথমে হাইকমান্ডকে জানান। সেখান থেকে তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু অপেক্ষা করলে এবং বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভোট দিতে গেলে তাদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই অপেক্ষা না করে তিনি ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজশাহী-১ ও ৪ আসনে তিনটি কেন্দ্রে সাময়িক স্থগিত পরে ভোট গ্রহণ ॥ রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের দুটি কেন্দ্রে ও রাজশাহী-৪ আসনের একটি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সেখানে আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে রাজশাহী-১ আসনের দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হলেও পরে ভোটগ্রহন করা হয়।
ভোটকেন্দ্রে ককটেল হামলা, মারামারি: রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর বের হয়ে যাওয়ার পরে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, রাজশাহীর সপুরায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নগরীর সপুরা এলাকার অন্নদা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল সোয়া দশটার দিকে অন্নদা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিএনপির সমর্থকরা ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর বের করে দেওয়ার জন্য বসে ছিল। সে সময় নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে আসছিল। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে নৌকার সমর্থকরা আশেপাশের লোকজনদের মারধর শুরু করে। এতে বিএনপির সমর্থকরা বাধা দিতে গেলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে ও মারধর করে। নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশের মারপিটে শাহ মখদুম থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ আহত হয়েছেন। তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে বেলা ৪ টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর ৬ টি আসনের কোথাও আর কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। সবখানে দেখা গেছে ভোটারদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ। রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের জানান, সার্বিকভাবে রাজশাহীর সব আসনেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া ভোটকেন্দ্রসমুহে ভোটার উপস্থিতি ভালো ছিলো।
নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনীর সদস্য, প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে মোবাইল টিম এবং থানায় একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করেছে। এছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও সহকারী কমিশনার এবং অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন ছিল। যেকোন ধরনের সহিংসতা মোকাবেলার জন্য তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রমে কর্মরত ছিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত। এছাড়া যে কোন ধরনের নাশকতা মোকাবেলার জন্য নিয়মিত সোর্সের পাশাপাশি বোমা নিস্ক্রিয়করণ ও কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত ছিল।
রাজশাহীর বাগমারায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ।
কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয় ভোট গ্রহণ।
রবিবার সকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হলে নিজের ভোট কেন্দ্র উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম নৌকায় ভোট প্রদান করেন ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপি।
ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপির ভোট প্রদানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। অপরদিকে কাঁঠালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টায় নৌকায় ভোট প্রদান করেন এমপি এনামুল হকের পত্নী মিসেস তহুরা হক।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তৃতীয় বারের মতো রাজশাহী-৪(বাগমারা) আসনে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়।
গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। সকাল ৮ টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলে তিনি প্রথমে ভোট দেন। পর্যায়ক্রমে সকলে নৌকায় ভোট দিতে থাকেন।
মাড়িয়া ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ৪টি। আর মোট ভোটার ১৪ হাজার ৮শত ১১ জন। এদিকে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক যে কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন সেই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ১শত ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষণ ভোটার ২ হাজার ৫শত ৬৯জন এবাং মহিলা ভোটার ২ হাজার ৫ শত ৪৮জন। সকাল থেকেই এ কেন্দ্রে নারী-পুরুষ সকল ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মাড়িয়া ইউনিয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের বাড়ি হওয়ায় এবং নিজের ছেলেকে বিজয়ী করার উদ্দেশ্যই ছিল সকল ভোটারের মাঝে।
ভোট প্রদান শেষে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন উপজেলার সকল কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটাধিকার প্রদান করছে ভোটাররা। ভোটাররা যাকে যোগ্যমনে করবেন তাকেই ভোট দেবেন। কাকে ভোট প্রদান করবেন এটা একান্তই ভোটারদের ব্যক্তিগত বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই