যেখানে স্যানিটারি প্যাডের চেয়েও সস্তা কুমারিত্ব!
নাইজেরিয়ার অবিবাহিত দুই তরুণী গর্ভবতী হওয়ার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্যানিটারি প্যাড কিনে দেওয়ার চুক্তিতে ওই দুই তরুণী পুরুষের বিছানায় গেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে নাইজেরিয়ার একেবারে দক্ষিণাঞ্চলের আকওয়া ইবম এলাকায়। ওই দুই তরুণীর দাবি, একেবারে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ার কারণে তারা কেবল স্যানিটারি প্যাডের বিনিময়ে বিছানায় যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সে দেশের একজন এনজিওকর্মী সিফন উডো বলেন, গর্ভবর্তী হওয়া ওই দু'জনের মধ্যে একজনের বয়স ১৬ বছর এবং অন্যজনের ১৯। স্যানিটারি প্যাড কেনার মতো সামর্থ্য ছিল না তাদের। সে কারণে তাদের স্যানিটারি প্যাড কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দু'জন পুরুষের সঙ্গে তারা বিছানায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেবল দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করার কারণে তারা এ ধরনের কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।
১৭ বছর বয়সী আরেক তরুণী জানিয়েছেন, মিষ্টি খাওয়ার বিনিময়ে তিনি বিছানায় গেছেন এবং তার পরই গর্ভবতী হয়েছেন। গর্ভবতী হওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর।
জানা গেছে, সে দেশে স্যানিটারি প্যাডের সর্বনিম্ন মূল্য ২৫০ নাইরা। দরিদ্র পরিবারগুলোর সেসব কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া জন্ম নিরোধক সরঞ্জামও তাদের কাছে সেভাবে পৌঁছাচ্ছে না। সে কারণে বিবাহিত বেশিরভাগই নারী একের পর এক সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। সন্তান লালন-পালন সম্পর্কেও এসব নারী সচেতন নয়।
দারিদ্রের কারণে তারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আবার নিজেদের সন্তানদেরও তারা অবহেলা করছে। অনেক কিশোরী তাদের স্বজনদের কাছে ধর্ষিত হয়ে পরিবারের লোকজনদের জানিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না। বরং পরিবার থেকে কিশোরীদেরই দোষ দেওয়া হয়।
আকওয়া ইবম স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় উঠে এসেছে একেবারেই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানকার কিশোরীরা গর্ভবতী হওয়ার অনেকটা প্রতিযোগিতা করে। দু'জন কিশোরীর একজন যদি গর্ভবতী হয়, তাহলে সে মনে করে সে উঁচু শ্রেণিতে উঠে গেছে। সে মনে করে, আমার এখন বাচ্চা আছে, আমার এখন অনেক দায়িত্ব। নিজের বাচ্চা থাকার বিষয়টা এমন যে, তোমার তুলনায় আমার তো অনেক বেশি টাকা আছে।
আর এটা চলে চক্রাহারে। এই মা তার মেয়েকে একই শিক্ষা দেয়। ফলে এই জাল থেকে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে সেখানে। -কালের কণ্ঠ

কোন মন্তব্য নেই