'নুসরাত হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার হবে'
নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'ধর্ম-বর্ণ, বয়স, পেশা নির্বিশেষে সব লোকই কিন্ত এই আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছে এবং সরকারও এই ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি আশা করি খুব শীঘ্রই এদের বিচারও শুরু হয়ে যাবে।'
এদিকে, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পিবিআই। এছাড়া ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার আদালতে হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দেয়া হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে, রাজধানীর ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।
তিনি বলেন, 'এ হত্যায় পাঁচটি বোরখা ব্যহার করা হয়েছিল যার মধ্যে থেকে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, যৌন হয়রানির মামলা তুলে নেবার জন্য প্রথমে নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখাতে হবে। পরে, যদি এতেও কাজ না হয় তবে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন সিরাজউদ্দৌলা। এমনকি, কিভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হবে জেলে বসে সেই পরিকল্পনাও করে দেন তিনি।'
বনজ কুমার বলেন, 'গত ৬ই এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে ৪-৫ জন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ছাদে ডেকে নিয়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে, ফেনী সদর হাসপাতালে থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। এরপর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ই এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।'

কোন মন্তব্য নেই