উন্নয়নের ভয়াবহ ট্রেনে বাংলাদেশ
একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করছে সরকার। এই নাইট-ডে নির্বাচনটির স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। কেবল এ নির্বাচন নয়, গত তিনটি নির্বাচনের অনুষ্ঠান প্রক্রিয়া ও ফলাফলই বিতর্কিত, যদিও এর আগে প্রথম ও ষষ্ঠসহ আরও অনেক নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
নির্বাচনী দুর্নীতির শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আলোচ্য তিনটি নির্বাচন ব্যাপক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতি ও কারচুপির বিভিন্ন রূপ দেখা গেছে এ তিনটি নির্বাচনে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে নির্বাচনের নেতিবাচকতা নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, তারাও বাংলাদেশের নির্বাচনগুলো থেকে নতুন নতুন দুর্নীতি ও কারচুপির চর্চা ও ব্যবহার শিখছেন।
সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক সরকারাধীনে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে ৮৭.৬০ শতাংশ ভোট পড়া; দশম সংসদ নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠানের আগেই কোন দল সরকার গঠন করবে সে নিশ্চয়তা পাওয়া এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ কেন্দ্রে দিনের ভোট পূর্বরাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়গুলোতে গণতন্ত্র ও নির্বাচন বিষয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণার অনেক নতুন উপাদান খুঁজে পেয়েছেন।
নির্বাচনী কারচুপির ওপর বিশ্বব্যাপী র্যাংকিং করা হলে বাংলাদেশের নাম হয়তো ওই সূচকের সর্বোচ্চ স্থানে দেখা যেত। তবে এ ধরনের র্যাংকিং না থাকলেও নির্বাচন নিয়ে যেসব গবেষক কাজ করেন তাদের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের নেতিবাচকতার খবর রয়েছে।
যেসব গবেষণা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন নিয়ে কাজ করে, তারা বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর সতর্ক ও কৌতূহলী দৃষ্টি রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি প্রজেক্ট এমনই একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এরা বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর ভালোমন্দ দেখভাল করে।
সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে। এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের দশম সংসদ নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়ায় কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি একাডেমিকদের সঙ্গে এ লেখকের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছিল। ফলে আমরা কেমন গণতন্ত্র চর্চা করছি এবং আমাদের নির্বাচনগুলো কেমন হচ্ছে, সে খবর যে বিশ্ববাসী জানেন না এমনটা মনে করা বোকামি হবে। কাজেই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব কতটা সমীহ করবে সে অনুমান করা যায়।
গণতান্ত্রিক দেশে উন্নতি করতে হলে গণতন্ত্র বিকাশের জন্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হয়। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকারিতা ও পেশাদারিত্ব সৃষ্টি করতে পারলে গণতন্ত্র বিকশিত হয়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথমে বলতে হয় নির্বাচন কমিশনের কথা। কারণ নির্বাচন হল গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা। গণতন্ত্রে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। আর এ নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব হল নির্বাচন কমিশনের।
কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে বিচারপতি ইদ্রিস কমিশন থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে কেএম নুরুল হুদা কমিশন পর্যন্ত যে ১২টি নির্বাচন কমিশন কাজ করেছে/করছে তারা কমিশনে পেশাদারিত্ব সৃষ্টি করতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে কমিশন মেরুদণ্ড সোজা করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য কোনো আইন না থাকায় কোনো কোনো কমিশন নিয়োগদাতা সরকারের পরোক্ষ নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছে। ফলে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে যে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, সে নির্বাচন কমিশন নাগরিক সমাজে আস্থা অর্জন করতে পারেনি।
এজন্য মানুষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ভোটে নানা ধরনের কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে দিনের ভোট পূর্বরাতে হয়ে গেছে। ফলে মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে ইসি গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
বিচার বিভাগ একটি দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। একটি দলের কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, তবে অন্য অনেক দলে যুদ্ধাপরাধী থাকলেও তাদের বিচারের প্রক্রিয়ার গতি ধীর প্রতীয়মান হচ্ছে। যেমন বেশ অনেক মাস ধরে এখন আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ শোনা যাচ্ছে না। তবে আবার হয়তো কখনও জোরেশোরে কোনো যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হতে পারে।
সাধারণভাবে দেশে একধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হওয়ার জন্য মোটেও অনুকূল নয়। দেশে বেশকিছু বড় অপরাধের বিচার না হওয়ায় নাগরিক সমাজে বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা গড়ে উঠছে না। শয়নকক্ষে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জে ত্বকী, কুমিল্লায় তনু, চট্টগ্রামে পুলিশ অফিসারের স্ত্রী মিতু ও ঢাকায় বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ওইসব বড় বড় হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।
এছাড়া নির্বাচনের সময় যেসব অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড হয়, এরও বিচার হতে দেখা যায় না। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, নিু আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।
গণতান্ত্রিক সমাজে জাতীয় সংসদকে কেন্দ্র করে সব সরকারি কাজ আবর্তিত হয়। গণতান্ত্রিক সরকারে সংসদই হল সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা গড়ে ওঠেনি। নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা সম্পর্কিত। নির্বাচন ভালো না হওয়ায় জাতীয় সংসদও প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
সংসদে একদলীয় প্রাধান্য থাকায় সংসদীয় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃত্ববাদী ভূমিকা পালন করা সহজ হচ্ছে। বিরোধীদল নগণ্য প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে জনকল্যাণকামী ভূমিকা পালনে বাধ্য করতে পারছে না। সংসদীয় কার্যক্রমে সংসদ সদস্যরাও আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন বলে মনে হয় না।
গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয় না। সরকার নানা কৌশলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ওপর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। কাজেই গণমাধ্যমে লেখকদের হিসাব করে সরকারের সমালোচনা করতে হয়। আবার সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কবিদের অনেকে সরকারের বিরুদ্ধে কলম ধরতে চান না। তাদের অনেকেই স্রোতের অনুকূলে লিখে নিজেদের আখের গোছান।
ইলেকট্রনিক মিডিয়াও তাদের বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান ও টকশোতে হিসেব করে আলোচক ডাকেন। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক টিভিতে রাতের টকশোতে একজন সরকারপক্ষীয় শক্ত আলোচক ডাকলে বিরোধীপক্ষ থেকে ডাকা হয় একজন দুর্বল ধরনের আলোচক। এভাবে গণমাধ্যম তার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার জায়গাটিতে কাজ করতে পারছে না। কাজেই গণমাধ্যমের ভূমিকাকে অনেক ক্ষেত্রেই একপক্ষীয় ও প্রো-এসটাব্লিশমেন্ট মনে হয়।
গণতন্ত্রকে সবল করতে সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দুঃখের বিষয় হল, বাংলাদেশের সুশীল সমাজ দেশের জন্য যতটা ভাবেন, তার চেয়ে নিজের কল্যাণের কথা ভাবেন বেশি। এরা বিভক্ত এবং স্রোতের অনুকূলে কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন। এদের বেশির ভাগ সদস্য যখন যে দল সরকারে থাকে, সে দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ভালোবাসেন।
বিবেক বিক্রি করতে এদের সময় লাগে না। বিরল ব্যতিক্রম ব্যতীত নাট্যকাররা হাসির নাটক লিখে, সঙ্গীতশিল্পীরা প্রেমের গান গেয়ে, গীতিকাররা প্রেমের গান লিখে, সরকারের গুডবুকে থাকতে প্রয়াস পান। খুব কম শিল্পীই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জায়গায় কাজ করেন। খুন, গুম, সন্ত্রাস, নৈশ ভোট, ক্রসফায়ারের ওপর কেউ কাজ করতে চান না। বড় বড় সাহিত্যিক ও গবেষকদের সরকারের অন্যায় কাজের প্রতি আলোকপাত করার চেয়ে বিভিন্ন পদ-পদবির দিকে আগ্রহ বেশি। সরকারের প্রশংসাভাজন হতে পারলে এরাই একুশে পদক পান। স্বাধীনতা পদক পান।
গণতন্ত্রের কার্যকারিতার জন্য শিক্ষা খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অশিক্ষিত নাগরিকরা সরকারি কাজে অংশগ্রহণ করতে চান না। শিক্ষিত নাগরিকরা সরকারি কাজের ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। নির্বাচনের সময়ও ভালো নেতা নির্বাচিত করতে পারেন। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশের সম্পদ। অথচ দেশের শিক্ষাঙ্গনের অবস্থা এখন নাজুক।
সেখানে কোনো শৃঙ্খলা নেই। চলমান বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি দেশে নাগরিক সমাজে ঐক্য সৃষ্টিতে অবদান রাখতে পারছে না। লেখাপড়ার মান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষা নিয়ে সরকারি পরিকল্পনা ও এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে অবৈধ আর্থিক লেনদেন হচ্ছে বলে টিআইবির রিপোর্টে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে কীভাবে শিক্ষার মান বাড়বে? এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।
গণতন্ত্রে সরকার গৃহীত নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে আমলাতন্ত্রের ওপর। আমলাদের নিয়োগে ফেয়ার প্লে হচ্ছে না। আমলাতন্ত্রে কোনো শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। যে কোনো সরকারই নির্বাচনে আমলাদের ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা গ্রহণে চেষ্টা করে। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হল সংসদ নির্বাচনের সময় ৬৪টি জেলায় নির্বাচনী কাজে পেশাদার ৬৪ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের চেয়ে কম অভিজ্ঞ ডিসি-এডিসি-ইউএনও সাহেবদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া।
এসব আমলার পদোন্নতি-বদলি যেহেতু সরকারের হাতে, কাজেই সরকার প্রলোভনের টোপ দিয়ে এদের কাছ থেকে বাড়তি নির্বাচনী সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। দেশে প্রশাসনিক পেশাদারিত্ব গড়ে উঠেনি। প্রশাসনের কাজ দেখলে মনে হয়, প্রশাসকরা নাগরিকদের সেবার চেয়ে সরকারি সেবায় অধিক আগ্রহী। একই চিত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেলায় প্রযোজ্য।
সরকারি ইচ্ছা হলে তারা আইনশ্ঙ্খৃলা দমনে মনোযোগী হন। তা না হলে বছরের পর বছর রাজধানীতে তাদের সামনে ক্যাসিনো ব্যবসা, মদ, জুয়া ও ইয়াবা কেনাবেচা চললেও তারা তা দমন করেননি। সরকারি উচ্চমহলের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা তা দমনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
এতসব অবনমন ও ধস রোধে মনোযোগ না দিয়ে সরকারি নেতা-মন্ত্রীরা অবকাঠামোগত উন্নয়নের গীত গাইছেন। তাদের ভাষায় দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নে সীমিত নেই। এ উন্নয়নে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠা, মাদকব্যবসা, শিক্ষাঙ্গন দখল, টর্চার সেল গঠন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির উন্নয়নও যুক্ত রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল নির্যাস গণতন্ত্রের উন্নয়ন হয়নি।
গণতন্ত্রের উন্নয়নে কাজ না করে এরা কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। ফোর লেন সড়ক, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার ইত্যাদিতেই এদের মনোযোগ। গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়ন যে টেকসই হয় না সে বিষয়টি কেউ আমলে নিচ্ছেন না। গণতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের নামে দেশকে যে ট্রেনে তোলা হয়েছে তার সামনে স্টেশন নেই। দ্রুতগামী এ ট্রেন থেকে দেশকে নামানো দরকার। ওঠানো দরকার গণতন্ত্রের ট্রেনে।
যে ট্রেন সব যাত্রীর সেবা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে তাদের শান্তি ও নিরাপত্তার স্টেশনে নামিয়ে দিবে। এ কাজে গাফিলতি করলে দ্রুতগামী উন্নয়নের ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়বে। কত সময় নিয়ে কতদূর গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটবে, তা এখনই বলা যাবে না।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

কোন মন্তব্য নেই