নিউজ ফাস্ট

করোনা থেকে সুস্থ হওয়া নারীর পরামর্শ: আতঙ্কিত হবেন না














আমেরিকার সিয়াটলের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী এলিজাবেথ স্নাইডার। ফেব্রুয়ারির শেষভাগে আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনাভাইরাসে। ভুগেছেন কয়েকদিন। এরপর সুস্থও হয়ে উঠেছেন। সেই এলিজাবেথ যুক্ত হয়েছিলেন মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনে। সবার প্রতি তার পরামর্শ একটাই, আতঙ্কিত হবেন না।

এলিজাবেথ জানিয়েছেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে একটা ছোট্ট পার্টি ছিল। এর তিন দিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে কাজ করছিলেন তিনি। এমন সময় অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি। প্রচণ্ড ক্লান্তি, সারা গায়ে ব্যাথা আর মাথা ব্যথার সঙ্গে জ্বরও ছিল তার। কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।

এলিজাবেথ জানান, জ্বর বাড়তে বাড়তে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়। রাত নাগাদ তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ ডিগ্রিতে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে এলিজাবেথও শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। তবে তার শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণগুলো করোনাভাইরাসের সঙ্গে মিলছিল না। কফ, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা বা শ্বাসনালীতে কোনো সমস্যা ছিল না তার।

এলিজাবেথের ধারণা, ওই পার্টি থেকেই হয়তো তিনি অসুস্থ হয়েছেন। কেননা সেদিন পার্টিতে আসা অন্যদেরও একই সময়ে একই ধরনের অসুস্থতা দেখা দেয় বলে জানতে পারেন তিনি।

এদিকে, অসুস্থবোধ করায় অনলাইনে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার চেষ্টা করেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না। সেই টেস্টের পর চিকিৎসকরা এলিজাবেথকে জানান, তিনি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত নন। বরং তার লক্ষণগুলো বার্ড ফ্লু’র সঙ্গে মিলে যায়। সেই অনুযায়ীই স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দেন তারা। কিন্তু বার্ড ফ্লু’র পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে তার।

এরপর আবার অনলাইন টেস্টের জন্য আবেদন করেন এলিজাবেথ। এবারে নাক থেকে সংগৃহীত নমুনা তিনি পাঠিয়ে দেন পরীক্ষার জন্য। সেই পরীক্ষার ফলই জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এরপরই তিনি নিজেকে ঘরে আটকে ফেলেন, অর্থাৎ সেলফ আইসোলেশনে চলে যান। পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ওষুধ সেবন করতে থাকেন।

সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগেনি এলিজাবেথের। দিন কয়েকের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসেন তিনি। এলিজাবেথ সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, দয়া করে কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আপনি যদি তুলনামূলক তরুণ ও সুস্থ হন এবং অসুস্থ হলে নিজের যত্ন নিতে পারেন, তাহলে আমার বিশ্বাস— আপনি সুস্থ হবেনই। আমি নিজেই তার জ্বলজ্ব্যান্ত প্রমাণ।’

এলিজাবেথের পরামর্শ, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে আপনি যদি সামান্য অসুস্থও বোধ করেন, তাহলে যত দ্রুতসম্ভব একজন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন ও পরীক্ষা করান। সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সেইসঙ্গে পরিবারের বয়স্কদের নিরাপদে রাখুন, কারণ ঝুঁকিটা তাদেরই বেশি।

সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, এলিজাবেথের মতো তরুণ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী যারা, তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই প্রবল। বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও শ্বসনতন্ত্রের মতো শারীরিক জটিলতায় যারা আক্রান্ত, তাদের জন্যই কোভিড-১৯ বিপদজনক। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।

এলিজাবেথেরও তাই শেষ পরামর্শ একটাই, ‘দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না।’

No comments