নিউজ ফাস্ট

স্প্যানিশ ফ্লু রহস্য














১৯১৮ সালের শরত্কাল, ইউরোপের ভূমিতে প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হতে চলেছে। এমন সময় দুনিয়ায় নেমে আসে এক মহামারী। মানুষ এর নাম দিয়েছিল স্ক্যানিশ ফ্লু। নামটি যত নির্দোষ কিংবা রোমান্টিক শোনাক না কেন, এর দণ্ড থেকে মানুষ রক্ষা পায়নি। প্রথম মহাযুদ্ধে যত মানুষ মারা গিয়েছিল, তার প্রায় দ্বিগুণ আদম সন্তান প্রাণ হারায় এ স্ক্যানিশ ফ্লুর আক্রমণে। যুদ্ধের মতো এ ফ্লুও কাউকে ক্ষমা করেনি—তরুণ-বৃদ্ধ, অসুস্থ কিংবা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। সেবার শীতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই কবরে যেতে হয়েছিল প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে। স্ক্যানিশ ফ্লু মানুষের ফুসফুস থেকে জীবন শুষে নিচ্ছিল।

নানা কারণে মানব ইতিহাসে এ দুর্যোগ ফুটনোট হিসেবে রয়ে গেছে। সম্ভবত প্রথম মহাযুদ্ধের ত্রাসই ‘স্ক্যানিশ ফ্লু’ দুর্যোগকে ইতিহাসের পাতায় উপযুক্ত মনোযোগ পেতে দেয়নি। মহাযুদ্ধের আরো সব দুর্যোগের সঙ্গে এ মহামারীর ক্ষত মিশে গিয়েছিল। জনপরিসরে আলোচনা থেকে গবেষকদের গবেষণা কিংবা ইতিহাসবিদের কলম—সবখান থেকেই হারিয়ে যায় স্ক্যানিশ ফ্লু। ১৯৭৬ সালে আলফ্রেড ডব্লিউ ক্রসবি লেখেন আমেরিকা’স ফরগটেন প্যান্ডেমিক।

তবে একটি নির্দিষ্ট দলের মানুষের মনে-স্মৃতিতে স্ক্যানিশ ফ্লু জ্বলছিল। ফ্লু গবেষকদের মন থেকে ১৯১৮ সাল মুছে যায়নি। কারণ তারা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছিল এ মহামারী যেন দুনিয়ায় আবার ফিরে না আসে। গত শতকে ইনফ্লুয়েঞ্জা বিষয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক কিছু উদ্ধার করেছিলেন। এখন মানুষ জানে ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য দায়ী ভাইরাস পরিবারটি পাখি ও শূকরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। এ ফ্লুর ভ্যাকসিন তৈরি করতে মুরগির ডিম কাজে লাগে। ১৯১৮ সালের মহামারী বহুকাল ধরেই এক রকম রহস্য হয়ে ছিল। কেন এ মহামারী এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে কেউ ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

১৯৯৭ সালে ব্রেভিগ মিশনে সমাধিক্ষেত্রে ৭২ বছর বয়সী জোহান হাল্টিন

ফ্লু কি আবার ফিরে আসতে পারে? আবারো কি লাখো মানুষের প্রাণ যেতে পারে? জিনা কোলাটা ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত তার বই ‘ফ্লু: দ্য স্টোরি অব দ্য গ্রেট ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যান্ডেমিক অব নাইন্টিন এইটিন অ্যান্ড দ্য সার্চ ফর দ্য ভাইরাস দ্যাট কজড ইট’-এর বিষয় ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা এবং জিনা বলেছেন, ফ্লু নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা খুব স্বস্তিতে থাকেন না। বিশেষত বিভিন্ন পশু থেকে ছড়ানো ভাইরাসের ব্যাপারে তারা আতঙ্কিত। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে বিজ্ঞানীরা এক বিরাট কাজ করতে রাজি করিয়েছিলেন। একজন তরুণ সেনা সোয়াইন ফ্লুতে মারা যাওয়ার পর পুরো দেশের মানুষকে ইমিউনাইজ করা হয়েছিল। প্রায় আড়াই দশক আগে হংকংয়ে এক শিশুর মৃত্যুর পর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ১০ লাখের বেশি মুরগি মেরে ফেলা হয়। কারণ ধারণা করা হচ্ছিল, শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল বার্ড ফ্লু ভাইরাসে।






বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন ১৯১৮ সালের রহস্য থেকে। কারণ তারা জানতেন, স্ক্যানিশ ফ্লুর সন্তান যেকোনো দিন ফিরে আসতে পারে। একালে বায়োটেকনোলজিতে বিজ্ঞানীরা বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছেন। বহু বছর আগে মৃত কোনো জীবাণুর জেনেটিক কোডকে টিকে থাকা টিস্যু থেকে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, ১৯১৮ সালে স্ক্যানিশ ফ্লুর ভাইরাস কেন আক্রমণ করেছিল, সেটা তারা উদ্ধার করতে পারবেন। তাদের শুধু দরকার সেই বছরের একটা মৃত ভাইরাসের নমুনা। সেই মতো শুরু হলো খোঁজ। টরন্টোভিত্তিক বিজ্ঞানীদের একটি দল সুমেরুর বৃত্তের ৬০০ মাইল উত্তর দিকে নরওয়েজিয়ান দ্বীপ স্কিটসবার্গেনে সাতজন তরুণ খনি শ্রমিকের কবর শনাক্ত করেন। এরপর বিশদ পরিকল্পনা, অর্থ সংগ্রহ ও অনুমতি আদায়ের কাজ চলে। ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীদের দলটি অনেক গণমাধ্যমকর্মীসহ স্কিটসবার্গেনে পৌঁছেন। এ উত্তেজনা, আলোড়ন ১৯১৮ সালে স্ক্যানিশ ফ্লু নিয়ে আরেকটি বইয়ের প্রকাশ নিশ্চিত করে—‘ক্যাচিং কোল্ড’। ১৯৯৯ সালে ব্রিটিশ লেখক পিট ডেভিস বইটি প্রকাশ করেন। গণমাধ্যমের হুড়োহুড়ির মধ্যে স্কিটসবার্গেনে বিজ্ঞানীদের অভিযান শুরু হয়। কিন্তু দেখা যায়, মরদেহগুলো বরফে ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়নি। তাই অভিযান এক রকম ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজিতে ১৯১৮ সালের ভাইরাসের জিন রহস্য উন্মোচন গবেষণায় বেশ আগ্রগতি হয়। এ ইনস্টিটিউটের আব্রাহাম লিংকনের নির্দেশনা অনুসারে তার আমল থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত টিস্যু সংগ্রহ করা হতে থাকে। বর্তমানে এ ইনস্টিটিউটের আর্কাইভে এ রকম লাখ লাখ নমুনা সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে ছিল ১৯১৮ সালে স্ক্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত মানুষের ফুসফুসের টুকরোর কয়েক ডজন নমুনা।

সিয়াটলে স্প্যানিশ ফ্লু থেকে বাঁচতে পুলিশের মুখে মাস্ক, ১৯১৮

যুক্তরাষ্ট্রের আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজির মলিকুলার বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের কেউ তখন ফ্লু বিষয়ক গবেষণায় বিখ্যাত নন। এক বছরের চেষ্টায় তারা ভাইরাসের টুকরো পৃথক করতে সক্ষম হন। অবশ্য শেষমেশ এ ঘটনা মাইক্রোবায়োলজির আবিষ্কার হিসেবে খ্যাত হয়েছে। শিগগিরই ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানীরা সুমেরু অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা নমুনার সঙ্গে তাদের গবেষণার তুলনা করতে সক্ষম হন। তবে সুমেরুর এ নমুনা কিন্তু স্কিটসবার্গেন অভিযান থেকে পাওয়া নয়, বরং একাকী এক ক্ষ্যাপা ভ্রমণকারী সংগ্রহ করেছিলেন। জোহান হাল্টিন তার সময়ের চেয়ে অন্তত অর্ধশতাব্দী এগিয়ে ছিলেন। চিকিত্সাশাস্ত্রের তরুণ ছাত্র হিসেবে তিনি প্লেগের জীবাণুর সন্ধানে আলাস্কা গিয়েছিলেন। জায়গাটি ছিল আলাস্কার নোমের ব্রেভিগ মিশন। ১৯৫১ সালে উত্তরাঞ্চলীয় এসকিমো সেটলমেন্টে তিনি স্ক্যানিশ ফ্লু আক্রান্তদের কবর খুঁজে বের করেন। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে মরদেহগুলো কবর থেকে তোলার অনুমতি আদায় করেন। কিন্তু তখনকার দিনে টিস্যু সংগ্রহ ছাড়া বিজ্ঞানের পক্ষে জোহানকে সহায়তা করার আর কিছু ছিল না। এ অভিযানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সুইডেনের এক তরুণের জন্য এটা ছিল এক দারুণ অভিযান। এর আগে আমি কখনো এসকিমোদের সঙ্গে কথা বলিনি। আমার বিশ্বাস ছিল আমি ভাইরাসটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাব এবং পেয়েছিলামও।’

হাল্টিন সান ফ্রান্সিসকোয় একজন সফল প্যাথলজিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছিলেন। কিন্তু ফ্লু বিষয়ে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। ১৯৯৭ সালে আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউটের গবেষণার কথা জানার পর তিনি তাদের চিঠি লেখেন যে তাদের আর কোনো নমুনা লাগবে কিনা। হাল্টিনের বয়স তখন ৭২। তিনি আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউটের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে তার তরুণ বয়সের মতো আবারো ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিযানে। এ বৃদ্ধ বয়সে ফিরে যান আলাস্কার নোমে। নতুন করে কবর খুঁড়ে কিছু টিস্যু পৃথক করে বাণিজ্যিক ডাকে ফ্রোজেন প্যাকেজে তাদের প্রেরণ করেন। আর্কাইভের সংগ্রহে থাকা ভাইরাস নমুনার সঙ্গে হাল্টিনের নমুনা মিলে যায়। জিনা কোলাটা তার ‘ফ্লু’ বইয়ে হাল্টিনের এ কাহিনী যত্ন নিয়ে উল্লেখ করেছেন। হাল্টিন দেখিয়েছেন বিজ্ঞানীর কাজ সবসময় বড় পুরস্কার কিংবা ফান্ডের ওপর নির্ভর করে না। জোহান হাল্টিনকে ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণার ইন্ডিয়ানা জোনস’ও বলা হয়।

৭২ বছর বয়সে নিজের সফল অভিযান নিয়ে হাল্টিন বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম, ভাইরাসটা এখানেই পাওয়া যাবে। সেটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি।’ হাল্টিন যে তার সময়ের থেকে অন্তত অর্ধশতাব্দী এগিয়ে ছিলেন তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫১ সালে স্ক্যানিশ ফ্লুর ভাইরাসের নমুনা খুঁজতে গিয়ে তিনি তার প্রমাণ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে জীবাণুযুদ্ধে ধারণা সক্রিয়ভাবে হাজির হওয়ার অর্ধশতাব্দী আগে তিনি এ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা শুরু করেছিলেন। অ্যানথ্রাক্স ও অন্যান্য প্রাণঘাতী জৈব উপাদান নিয়ে তিনি নিজের গবেষণাগারে কাজ শুরু করেছিলেন। তার কথা ছিল, ‘আমি প্রস্তুত থাকতে চেয়েছিলাম।’ তার কথায়, ‘তাত্ত্বিকভাবে কেউ চাইলে জৈব যুদ্ধের জন্য জীবাণু তৈরি করতে পারে, এমন রোগের সৃষ্টি করা সম্ভব, যা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা দেয়নি। এগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী করে তৈরি করা সম্ভব।’

বৃদ্ধ বয়সে ২০০২ সালেও হাল্টিন পিঠে ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন বিশ্বজুড়ে—তুরস্ক থেকে সাইবেরিয়া। সারা জীবনই হাল্টিন অনুসন্ধান করেছেন, জীবনে তার মূলনীতি ছিল একটাই, ‘কখনো থামা যাবে না।’

জোহান হাল্টিনের জন্ম সুইডেনে, ১৯২৪ সালে। ১৯৪৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে মাস্টার্স করেন। তিনি ১৯৫১ সালে স্ক্যানিশ ফ্লুর ভাইরাসের রহস্য উন্মোচনের সিদ্ধান্ত নেন। তার কথায়, এটি দুনিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক ভাইরাস। জিনা কোলাটা তার বইয়ে লিখেছেন, স্ক্যানিশ ফ্লুর মতো কোনো ভাইরাস যদি এ যুগে আক্রমণ করে, তাহলে এক বছরে যে সংখ্যক মানুষ মারা যাবে, তা একই সময়ে হূদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক, এইডস ও অ্যালঝেইমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে।

কোলাটা তার বইয়ে স্ক্যানিশ ফ্লুর কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বিজ্ঞানের কাজের গতি-প্রকৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, বিজ্ঞান ও জনমত মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। কোনো বৈজ্ঞানিক ইস্যু যখন পত্রিকার প্রথম পাতায় স্থান করে নেয়, তখন সেটা যুক্তির হাতছাড়া হয়ে যায়। কোলাটা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলা ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম নিয়ে বিশ্লষণ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের ফোর্ডের নেয়া ইমিউনাইজেশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে যতটা না ছিল বৈজ্ঞানিক বিবেচনা, তার চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক উপযোগিতা। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ না থাকলেও ছড়িয়ে পড়া জন আতঙ্ক দূর করতে ফোর্ড তার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।








অনেক সময় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার জনমানসে যুক্তিসংগতভাবেই আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রগতির জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভার শুধু বিজ্ঞানীদের হাতেই দেয়া উচিত। স্ক্যানিশ ফ্লু নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারাই সফল হয়েছিলেন, যারা সংবাদমাধ্যম বা লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন।

২০১৪ সালের এপ্রিলে একদল বিজ্ঞানী ঘোষণা করেন, তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বায়োমেডিকেল রহস্যের সমাধান করতে পেরেছেন। আর রহস্যটা হলো কেন ১৯১৮ সালে প্যান্ডেমিক ‘স্ক্যানিশ ফ্লু’ দুনিয়াজুড়ে সুস্থ তরুণদের প্রাণ নিয়েছিল। উল্লেখ্য, স্ক্যানিশ ফ্লু সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের প্রাণ হরণ করেছিল। বিজ্ঞানীর ব্যাখ্যাটি অবশ্য সরল। ১৮৮৯ সালের পর জন্ম নেয়া শিশুরা ১৯১৮ সালের স্ক্যানিশ ফ্লুতে বেশি মারা গিয়েছিল। কারণ তারা ১৯১৮ সালে ফ্লুর মতো কোনো ফ্লুর মোকাবেলা কখনো করেনি। কিন্তু তাদের চেয়ে বয়সীদের শরীরে ফ্লুর মোকাবেলায় কিছু প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছিল। গবেষণায় যুক্ত ভাইরোলজিস্ট ভিনসেন্ট রেসেনিয়েলো বলেছিলেন, পুরো ব্যাপারটাই আসলে সময়ের খেলা।







গবেষকরা ১৯১৮ সালের ফ্লুর ভাইরাসের বিভিন্ন উপাদানের বিবর্তনের ইতিহাসও পর্যবেক্ষণ করেছেন। স্ক্যানিশ ফ্লুর ভাইরাসের জিন গঠিত হয়েছিল মানুষ ও পাখির ফ্লুর স্ট্রেইন থেকে। তারা উন্মোচন করে তাদের অতীত ইতিহাস, ১৮৩০ সালের এক আধিপত্যশীল এক ফ্লু স্ট্রেইনের কথা। ১৮৮৯ সালে ছড়িয়ে পড়া রুশ ফ্লুর সঙ্গে ১৯১৮ ’র স্ক্যানিশ ফ্লুর কোনো সম্কর্ক ছিল না। স্ক্যানিশ ফ্লু ছিল ঐ১ঘ১ স্ট্রেইন। এ কারণে ১৮৮৯ সালের পর জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে স্ক্যানিশ ফ্লু প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তৈরি হয়নি। তবে ১৯০০ সালের পর স্ক্যানিশ ফ্লুর ঘনিষ্ঠ ঐ১ ভ্যারাইটির স্ট্রেইনের বিস্তার সে সময়ের পর জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে কিছুটা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছিল।

স্ক্যানিশ ফ্লুতে সবচেয়ে বেশি মারা গিয়েছিলেন ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা। আরো গবেষণায় দেখা গেছে স্ক্যানিশ ফ্লুর অগ্রদূত জন্ম নিয়েছিল ১৯০৭ সালে। এ কারণেই ঝুঁকিতে থাকা মানুষের তালিকায় ছিলেন তরুণরা।

এসএম রশিদ: নন-ফিকশন লেখক


No comments