ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০৯, কেন এই উচ্চ মৃত্যুহার
করোনাভাইরাস সংক্রমণে চীনের পর সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ইতালিতে। সেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। আর, এখন পর্যন্ত ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৮০৯ জন।
ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় দেশটিতে কোভিড-নাইন্টিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা কেন বেশি তার সঠিক কোনও ব্যাখ্যা মিলছে না। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে বেশকটি কারণ। তার অন্যতম একটি দেশটিতে বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যাধিক্য।
গত জানুয়ারির শেষ দিকে চীনের উহানে প্রাদুর্ভাব ঘটে নভেল করোনাভাইরাস। যা অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ইউরোপে শুরু হয় করোনার সংক্রমণ। এ অঞ্চলর বেশিরভাগ দেশই এখন করোনাআক্রান্ত। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইতালির।
উত্তর ইতালির বেশকটি বড় শহরে বিপুল সংখ্যক চীনা জনগোষ্ঠীর বসবাস। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব অভিবাসীর একাংশ উহান থেকে করোনার জীবাণু নিয়ে এসেছে ডিসেম্বরের শেষে। তবে ২০শে ফেব্রুয়ারিই প্রথম ধরা পড়ে ভাইরাসটির অস্তিত্ব। লম্বার্দিতে ৩৮ বছর বয়েসী এক ব্যক্তির শরীর মেলে করোনাভাইরাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের অন্যত্র যেখানে করোনায় মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে শুধু ইতালিতেই এই হার ৭ শতাংশ। এমনকি করোনার উৎপত্তিস্থল উহানের চেয়েও বেশি। কিন্তু কেন এই উচ্চ মৃত্যুহার? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে বেশকটি কারণ।
প্রথম কারণ, দেশটিতে বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা। ইতালিতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষ রয়েছে ২৩ শতাংশ, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। করোনা সংক্রমণে যারা মারা গেছে তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ৮০ বা তার বেশি। এসব লোকের ইমিউনিটি সিস্টেম অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় ভুগছিলেন নানা জটিল রোগে।
আরেকটি কারণ হচ্ছে, দেশটির স্বাস্থ্যপরীক্ষায় ত্রুটি। ধারণা করা হয়, শুরুর দিকে বেশিরভাগ রোগীর শরীরেই করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। এছাড়া দেশটিতে ধুমপানের উচ্চ হারকেও অধিক মৃত্যুর কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে।
সবশেষ কারণ, ইতালির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিচারে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বলা হলেও সেই ব্যবস্থায় রয়েছে বিশৃঙ্খলা। ব্যাপক হারে নাগরিকরা ভাইরাস আক্রান্ত হতে থাকলে সেই ত্রুটি ধরা পড়ে। তাছাড়া পূর্ব প্রস্তুতি না থাকাও মৃত্যুহার বেশি হওয়ার আর একটি বড় কারণ।

কোন মন্তব্য নেই