করোনাভাইরাস: বিশ্বজুড়ে চরম মাস্ক সংকট - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

করোনাভাইরাস: বিশ্বজুড়ে চরম মাস্ক সংকট







চীনে মহামারী রূপ নিয়ে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এতে বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। তরতর করে বেড়েছে ফেস মাস্কের চাহিদা। নতুন এই ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কয়েক দিনের মধ্যেই চীনে মাস্কের ঘাটতি দেখা দেয়।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও মাস্ক সংকট দেখা দিয়েছে। এটা চলতে থাকলে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের চরম বিপাকে পড়তে হবে। কারণ চিকিৎসক-নার্সদের মাস্ক ব্যবহার করা অত্যাবশ্যকীয়।

ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক সিটির একটি দোকান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দরজার বাইরে কাগজের সাইন বোর্ড টানিয়ে দিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল: লুনার নিউ ইয়ার (চন্দ্র নববর্ষ)-এর দ্বিতীয় দিন উদযাপনে আজ যেকোনও ক্রেতা বিনামূল্যে একটি করে মাস্ক পাবেন। এর এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পুরো পালটে যায়। বিশেষ করে করোনাভাইরাসে নিউইয়র্কে প্রথম আক্রান্ত একজনের মৃত্যুর পর মাস্কের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন মানুষ। এতে সেখানে চরমভাবে মাস্ক সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মাস্কের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে অধিকাংশ দেশে। চাহিদা বাড়ায় অনলাইন কেনাবেচার সাইটে একটি মাস্ক বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার টাকায়।






বিশ্বজুড়ে ফেস মাস্ক ঘাটতির কারণে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন চীনের শেনজেন-এ মাস্ক তৈরির জন্য একটি আলাদা কারখানা স্থাপন করেছে। এ থেকে বাজারে মাস্কের চাহিদা আন্দাজ করা যায়। ফক্সকন সাধারণত অ্যাপলের আইফোন তৈরি করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ মাস্ক উৎপাদন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছে তারা। এমনকি ঘাটতি দেখা দিয়েছে রেসপাইরেটরেরও। মাস্কের চেয়ে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রেসপাইরেটরগুলো বেশি কার্যকরী। হংকংয়ে ফার্মেসিগুলোয় দেখা গেছে ক্রেতাদের লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাস্ক কিনছেন মানুষ। মাস্কের চাহিদা এত বেড়েছে যে, কিছু ফার্মেসি ক্রেতাদের কাছে বিক্রিযোগ্য মাস্কের সংখ্যা সীমিত করে দিয়েছে। একজনের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাস্ক বিক্রি করা হচ্ছে না।

ফিলিপাইনে সরকারি উদ্যোগে হাইস্কুল ও কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্জিক্যাল মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সেখানকার বাজারে মাস্কের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ম্যানিলা, পাগাদিয়ান সিটি ও বুকিদননের মতো শহরগুলোয় পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত মাস্ক। থাইল্যান্ড মাস্ক রফতানি সীমিত করে দিয়েছে।

ফ্রান্সে রেসপাইরেটরি মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কলমি হোপেন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উৎপাদন চার থেকে পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে। ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত কর্মী খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের ৯৬ শতাংশ ফার্মেসিতে সার্জিক্যাল মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে।






করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৯০ হাজারে। এই ভাইরাসে ৯০ শতাংশের বেশি মৃত্যু ঘটেছে চীনের হুবেই প্রদেশে। চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও ১১টি জায়গায় ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। এর মধ্যে ইরানে ৫৪ জন এবং ইতালিতে ৩৪ জনের প্রাণ গেছে।

বিবিসি বলছে, চীনের চেয়ে এখন চীনের বাইরে এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে। তবে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কেবল মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রবিবার জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে।

কোন মন্তব্য নেই