ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুম ব্যবহারকারীরা সাবধান! - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুম ব্যবহারকারীরা সাবধান!














বিশ্বজুড়ে আকস্মিক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুম ব্যবহারকারীরা সাবধান! হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া পাঁচ লাখের বেশি জুম ব্যবহারকারীর তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তুলেছে সাইবার অপরাধীরা। যেখানে প্রত্যেক জুম অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অফার দেয়া হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

গত মাসজুড়ে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুমের ব্যবহার নজিরহীন বেড়েছে। অ্যাপটির আকস্মিক ব্যবহার বৃদ্ধির প্রধান কারণ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ মহামারী। ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ঘোষিত লকডাউনের কারণে কয়েকশ কোটি মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। অসংখ্য মানুষ বাসায় থেকে অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন মিটিং ও আলোচনায় অংশ নিতে জুম অ্যাপ ব্যবহার করছে। এছাড়া বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য বাসায় থেকে জুম অ্যাপে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। জুম অ্যাপের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। আকস্মিক বেড়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে জুম কর্তৃপক্ষ। অ্যাপটির নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

‘বিপিং কম্পিউটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক ওয়েবে সাইবার অপরাধীরা হাতিয়ে নেয়া একেকটি জুম অ্যাকাউন্টের তথ্য এক পেনির কম মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিনা মূল্যে তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি গত ১ এপ্রিল সাইবার নিরাপত্তা ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান ‘সাইবেল’ প্রথম সামনে এনেছিল। এরপর নিজেদের সেবা ব্যবহারকারীদের জুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।







সাইবেলের পক্ষ থেকে বলা হয়, গোপন একটি হ্যাকিং ফোরাম থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি জুম ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেনা হয়েছে। বিনিময়ে সাইবার অপরাধীদের কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হয়নি। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া এসব তথ্যের মধ্যে সাইবেলের কিছু কর্মীর তথ্যও রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ব্যক্তিগত সার্ভার ইউআরএল ও জুম হোস্ট কি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন না থাকায় এবং ‘জুমবম্বিংয়ের’ কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যে রয়েছে জুম কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিও ব্যবহারকারীদের মিটিং কিংবা আলোচনার মধ্যে ঢুকে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জুম অ্যাপের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে গত সপ্তাহে মুখ খোলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক এস ইউয়ান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আগে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানে সফটওয়্যার হালনাগাদ দেয়া হবে।

এরিক এস ইউয়ান বলেন, আগে প্রতিদিন এক কোটি মানুষ জুম ব্যবহার করে বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ নিতেন। গত মার্চ শেষে এ সংখ্যা ২০ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। আপাতত জুমের নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে ফিচার আপডেট বন্ধ রাখা হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাসায় থেকে কাজের পরামর্শ দিয়েছে। যে কারণে গত কয়েক সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক নতুন জুম ব্যবহারকারী সামাল দেয়া আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা বর্ধিত ব্যবহারকারীকে সেবাদানের বিষয়টিতে এককভাবে গুরুত্ব দিয়েছি।

ব্লগ পোস্টে জুম সিইও লেখেন, তার পরও আমরা বুঝতে পেরেছি যে কমিউনিটি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছি। আগামী তিন মাস নতুন কোনো ফিচারের পরিবর্তে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা ইস্যুর সমাধানে কাজ করবে জুম।


ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রথম এবং যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে জুম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার জনসাধারণকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বাসায় অবস্থান নিতে বলার পর জুমের ব্যবহার আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে, যা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপটির অবস্থানই বলে দেয়।

আকস্মিক জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নিয়েও সমালোচিত হচ্ছে জুম। নতুন যুক্ত হওয়া বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর চাপ সামাল দেয়ার মতো সক্ষমতা অ্যাপটির আছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। জুম অ্যাপের তথ্য নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মাপকাঠিকে ঘিরে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।







বিশ্বজুড়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে কর্মীদের জুম অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ তালিকায় রয়েছে ইলোন মাস্ক পরিচালিত স্পেসএক্স ও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা।

কোন মন্তব্য নেই