ক্ষুধার্তদের খোঁজ আর সরকারি চাল উদ্ধারে ব্যস্ত সিংড়ার নারী ইউএনও - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ক্ষুধার্তদের খোঁজ আর সরকারি চাল উদ্ধারে ব্যস্ত সিংড়ার নারী ইউএনও












মরনব্যাধী করোনারভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এসব নির্দেশনা পালনে একটু বেশি তৎপর ও আন্তরিকতা দেখা গেছে সিংড়ার নারী ইউএনও নাসরিন বানুকে। একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও রাত-দিন বিরামহীন ভাবে ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

জনগণকে সচেতন করা, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিন্ম আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার খাবার পৌছে দিচ্ছেন তিনি। ৩৩৩ এর ফোন কলের সঙ্গে সঙ্গে শুকনো খাবার ও চাউল, আলু, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের প্যাকেট নিয়ে ঘরে ঘরে ছুটে যাচ্ছেন।


ইতিমধ্যে মানব সেবার পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির ৬১ বস্তা চাল জব্দসহ প্রভাবশালী অপরাধীদের সাজার আওতায় এনে বেশ সুনামও কুড়িয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর এসব কর্মকান্ডের কারণে ‘মানবিক নারী’ ইউএনও হিসেবে আখ্যা পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। অনেকের মতে, প্রশাসনিক অন্যান্য পুরুষ কর্মকর্তার চেয়ে একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয় এবং দৃশ্যমান।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রথমত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জটি ছিল হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা। প্রায় ২ শতাধিক ব্যক্তি বিদেশ ফেরত ছিল। তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে আমি গিয়েছি। এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং ,সচেতনতামূলক লিফলেট, মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। গণসমাবেশ রোধে দিন নেই, রাত নেই আমি প্রতিদিনই ছুটে চলেছি। পুলিশের সহযোগিতায় মোড়ে মোড়ে অহেতুক আড্ডা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি মরনব্যাধী এ অদৃশ্য ঘাতকের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকতে তাঁর অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজেও সার্বক্ষণিক বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।







তিনি আরো বলেন, চলনবিল অধ্যুসিত সিংড়া উপজেলার সকল হাট-বাজার, রিক্সা-ভ্যান ও অপ্রয়োজীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় দিনমজুর ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। আর এই দূর্যোগে সাধ্য অনুযায়ী মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌছে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের খোঁজ খবর রাখতে প্রতিনিয়তই তাকে মাঠে থাকতে হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রনিধিদের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই