করোনা ‘প্রতিরোধী মহাঅস্ত্র’ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তৈরিতে বাঙালি বিজ্ঞানীর অবদান!
গোটা বিশ্বে বিপর্যয় নামিয়ে এনেছে করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের তাণ্ডবে এরই মধ্যে বেসামাল হয়ে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ লাখের অধিক মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আর মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৭৪৭ জন।
করোনা তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে ভারতের কাছ থেকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আমদানি করছে আমেরিকা। এটি না দিতে চাওয়ায় এক রকম হুমকিও দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ করা হয় এই ওষুধ।
যদিও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন করোনার ওষুধ নয়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস’র এখন পর্যন্ত কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ায় এর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বহুল ব্যবহৃত একটি ওষুধ।
তবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তৈরির ব্যাপক ক্ষমতা আছে একমাত্র বেঙ্গল কেমিক্যালসের। এরই মধ্যে তা প্রমাণ হয়েছে। করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তৈরির ব্যাপক ক্ষমতা আছে বলেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে যেন কোনওভাবে তা আদায় করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলা ও বাঙালির গর্ব খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তৈরি করেছিলেন এই বেঙ্গল কেমিক্যালস। স্বদেশি আন্দোলনের সময় দেশীয় শিল্পে জোয়ার আনতে তৈরি হয়েছিল বেঙ্গল কেমিক্যালস। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলা ও বঞ্চনায় ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে গেছে বেঙ্গল কেমিক্যালস।
গোটা বিশ্বে এখন মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য বিশ্বে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-এর কদর বেড়েছে। আমি গর্বিত যে, এর পিছনে বাংলার এক মানুষের অবদান রয়েছে।’
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদনে পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন। শেষপর্যন্ত বেঙল কেমিক্যালসকে ওষুধ তৈরির বরাত দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র সরকারকে নামাঙ্কিত স্ট্যাম্পে ছবি-সহ টুইট করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

কোন মন্তব্য নেই