নিউজ ফাস্ট

কনের বয়স ৮০, বরের ১০৫; মহা ধুমধামে বিয়ে!




 


জীবনের নিঃসঙ্গতা কাটাতে শতবর্ষী এক বৃদ্ধ ৮০ বছরের বৃদ্ধাকে বিয়ে করেছেন। চ্যাঞ্চল্যকর এই বিয়ে হয়েছে নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপাতিয়া ইউনিয়নের পুকুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। বিয়েতে ৫০ হাজার ৬৫০ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। পরে নগদ ৬৫০ টাকা পরিশোধিত দেনমোহরে ওই দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন হয়। শতবর্ষী বৃদ্ধার বিয়েতে গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


বুধবার  (২১ অক্টোবর)  দিনগত রাতে ওই দম্পতির বিয়ে সম্পন্ন হয়। পাত্রের নাম আহাদ আলী মণ্ডল ওরফে আদি (১০৫) ও পাত্রীর নাম আমেলা বেগম (৮০)।  তারা একই গ্রামের বাসিন্দা এবং উভয়ের ঘরেই সন্তান রয়েছে। কিন্তু একাকীত্ব জীবন কাটাতেন তারা। এ থেকে উত্তরণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবশেষে বেশ ধুমধাম পরিবেশে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।


দিঘাপতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার ওমর শরীফ চৌহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাত্র আহাদের চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তার নাতি-নাতনি থাকলেও স্ত্রী না থাকার কারণে বৃদ্ধ বয়সে বেশ একাকিত্বে জীবন কাটাতেন আহাদ। পরে তিনি এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।


অপরদিকে একই গ্রামের আমেলা বেগমের স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তান ও নাতি-নাতনি থাকলেও নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতেন তিনি। তবে তার সন্তানের সংখ্যা জানা যায়নি।

এ অবস্থায় তিনি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বুধবার রাতে খুব ঘটা করেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। যা এলাকাবাসীকে অনেকটাই কৌতূহলী করে তুলেছেন।  ফলে এ বিয়ে দেখতে অনেকেই ভিড় জমান বিয়েবাড়িতে।


চেয়ারম্যান আরো বলেন, এই বিয়েতে ৫০ হাজার ৬৫০ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। তবে বিয়ের সময় উপস্থিত মহারানা বাবদ নগদ ৬৫০ টাকা পরিশোধ করেন শতবর্ষী ওই বৃদ্ধ মানুষটি। উভর পরিবারের লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে তাদের এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। উভয়ের ছেলে-মেয়েরা উপস্থিত থেকে এ বিয়ে সম্পন্ন করেন।


বিয়েতে অন্তত শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন এবং বেশ ধুমধাম করেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। এসময় স্থানীয়রা চরম আনন্দে বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে তারা নবদম্পতির দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।


এদিকে শতবর্ষী বয়সী আহাদ ওরফে আদি ও ৮০ বছর বয়সী অমেলা বেগম তাদের দাম্পত্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যাতে ভালো সময় কাটে, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।



No comments