টিকটক সহ ৫৯টি চিনের অ্যাপ পাকাপাকিভাবে নিষিদ্ধ করল ভারত - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

টিকটক সহ ৫৯টি চিনের অ্যাপ পাকাপাকিভাবে নিষিদ্ধ করল ভারত

 


ভারত-চিন সংঘর্ষের ঘটনার পরেই চিনা অ্যাপের উপর সার্জিকাল স্ট্রাইক চালায় মোদী সরকার। টিকটক সহ একগুচ্ছ চিনের অ্যাপ নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকার।

 

কিন্তু এরপরেও কিছু সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ মঙ্গলবার টিকটক, উইচ্যাট সহ মোট ৫৯ টি চিনা অ্যাপ বরাবরের মতো নিষিদ্ধ করল ভারত। গত জুন মাসেই ইলেকট্রনিক্স ও ইনফরমেশন টেকনোলজি মন্ত্রক থেকে ওই অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করা হয়। সম্প্রতি সেগুলি চিরতরে নিষিদ্ধ করা হল।


জানা যায়, এর আগে একাধিকবার নিষিদ্ধ হওয়া অ্যাপগুলির কাছে সরকার জানতে চেয়েছিল যে, কীভাবে ইউজারদের তথ্য সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে। আর তা গ্রহণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইউজারদের যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে সেগুলি ঠিক কি কাজে লাগে।

 

এমন একগুচ্ছ প্রশ্ন করা হয় নিষিদ্ধ হওয়া অ্যাপগুলির কাছে। সংস্থাগুলি গুলি যে জবাব দিয়েছে, তাতে সরকার সন্তুষ্ট হয়নি। তাই অ্যাপগুলি বরাবরের মতো নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল।


গতবছর মোট ২০০ টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ছিল জনপ্রিয় স্মার্টফোন গেম পাবজি। নভেম্বরে ওই সংস্থা ঘোষণা করে, ভারতের জন্য বিশেষ ধরনের গেম আনবে। কিন্তু পরে জানা যায়, ভারত সরকার তাদের অনুমতি দেয়নি।


গত সেপ্টেম্বরে সরকার বিবৃতি দিয়ে বলে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯ এ ধারায় ওই অ্যাপগুলি নিষিদ্ধ করা হল। কারণ তারা এমন কিছু কাজে লিপ্ত হয়েছে যাতে ভারতের সার্বভৌমত্ব, সুরক্ষা ও প্রশাসন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তথ্যসংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে বলা হয়, নানা সূত্রে থেকে জানা গিয়েছে, অ্যানড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে এমন কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ পাওয়া যায় যেগুলি গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে।

 

শুধু তাই নয়, ইউজারদের তথ্য বেআইনি ভাবে চুরি করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। এর ফলে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা মোটেই সুরক্ষিত থাকছে না বলে দাবি। তবে কার্যত চিনের অ্যাপের উপর ভারতের এহেন সার্জিকাল স্ট্রাইকে ঘুম উড়ে যায় চিনের।


চিনের তরফে দাবি করা হয়, ভারত যেভাবে চিনের অ্যাপ নিষিদ্ধ করছে তাতে দুদেশের সম্পর্কে ক্ষতি হচ্ছে বলেই দাবি করা হয় বেজিংয়ের তরফে। কার্যত সেই হুশিয়ারি উড়িয়ে এবার একেবারে পাকাপাকিভাবে চিনের অ্যাপ নিষিদ্ধ করল ভারত।


প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের প্রথম বিশদ বিবরণী প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। গত বছরের ১৫ জুন লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং চিনের পিএলএ সেনার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ফলে ভারতের ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। চিনেরও অনেকে মারা গিয়েছিল। কিন্তু সেই সংখ্যা এখনও অজানা। প্রজাতন্ত্র দিবসে ১৬ বিহার পদাতিক ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল সন্তোষ বাবুকে মহাবীরচক্র প্রদান করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।


সোমবার কেন্দ্র যখন এই ঘোষণা করে তখনই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করে গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের কথা প্রকাশ্যে আনা উচিত।


কেন্দ্রের তরফে জারি করা উদ্ধৃতিতে বলা হয়, “কর্নেল সন্তোষ বাবু অপারেশন স্নো লেওপার্ড চলাকালীন গালওয়ান উপত্যকায় (পূর্ব লাদাখ) মোতায়েন ছিলেন। তাঁকে শত্রুর মোকাবিলার জন্য একটি পোস্ট স্থাপন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সুসংগঠিত পরিকল্পনা মাফিক তাঁর নিয়ে কর্নেল সাফল্যের সাথে এই কাজটি সম্পাদন করেছিলেন। এই পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন তিনি বিপক্ষের কঠোর প্রতিরোধের মুখোমুখি হন। তারা মারাত্মক এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে কর্নেলকে আক্রমণ করেছিল। তাঁর উপর উঁচ্চু জায়গা থেকে পাথর ছোঁড়া হয়।”


কোন মন্তব্য নেই