গাজায় বিজয়োল্লাস - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

গাজায় বিজয়োল্লাস

 

১১ দিন পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ইসরাইল ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। দু’সপ্তাহ ধরে গাজা ভূখণ্ডে চলা অশান্তির ইতি পড়েছে। ইসরাইলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলি। যুদ্ধবিরতির পরে এখন যুক্তরাষ্ট্র অবরুদ্ধ গাজা শহর পুনর্র্নির্মাণে সহায়তা করতে চাইছে। পুনরায় যাতে হামলা শুরু না করা হয় এজন্য হামাসকে চাপ দিতে ও বিনিময়ে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে বাইডেনের প্রশাসন।


ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিসরের প্রস্তাবে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত। এই যুদ্ধবিরতি হবে পারিস্পরিক ও নিঃশর্ত। যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলের উপর ক্রমশ চাপ বাড়ছিল। এছাড়া জো বাইডেন যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে বেশ কয়েকবার ফোনও করেছেন। যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইল সামরিক অভিযান বন্ধ করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি বলে মিসরকে জানায়। রাতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। যুদ্ধবিরতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর হবে। অর্থাৎ গতকাল থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।


যদিও হামাসের এক নেতা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুদ্ধ জয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে হামাসের ওই নেতা। গতকাল গাজা সিটিতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তিনি দাবি করেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা জয় পেয়েছেন। গাজা উপত্যকায় ইসলামপন্থী আন্দোলনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা খলিল আল-হাইয়া বলেন, ‘এটি বিজয়ের উচ্ছ্বাস।’ ইসরাইলের বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া বাড়িগুলি পুনরায় তৈরি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ইসরাইল ও গাজার মধ্যে শান্তি ফেরাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে মিসর। গাজার দ্বিতীয় শক্তিধর ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীও এগিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবপক্ষ একমত হয়।


এর পরে হোয়াইট হাউসে দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি নাগরিকরা সমান নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য। সেইসঙ্গে তাদের সমান স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রেই অধিকারও আছে। আমার প্রশাসন সেই লক্ষ্যে নিরবে কাজ করে চলেছে।’ এক টুইটে তিনি বলেন, ‘সহিংসতার ফলে শিশুসহ অনেক বেসামরিক নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘসহ অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গাজার জনগণের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদান এবং গাজা পুনর্র্নির্মাণ চেষ্টায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


বাইডেন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং পুনর্র্নির্মাণের অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা করছে। এই কাজে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভবত কয়েকশ’ কোটি ডলার খরচ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘গাজা পুনর্র্নির্মাণ - সম্ভবত জাতিসংঘের মাধ্যমে সমন্বিত হবে। এজন্য ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে কূটনৈতিক বাধা নিরসনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১০ মে থেকে ইসরাইলি হামলায় ৬৫ জন শিশু-সহ ২৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯০০ জন। হামাস দাবি করেছে, বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। পাল্টা ইসরাইল সেনা দাবি করেছে, হামাস ও অন্যান্য ইসলামপন্থী সশস্ত্র দলগুলি ইসরাইলের দিকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রকেট ছুঁড়েছে। তবে এর বেশিরভাগকেই ‘আয়রন ডোম’ এয়ার ডিফেন্স দিয়ে আটকানো গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রকেট হামলায় ইসরাইলে ২ শিশু, ১ সেনা-সহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় ও ২ জন থাইল্যান্ডের নাগরিক। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স।


কোন মন্তব্য নেই