এভারগ্র্যান্ডের রিসোর্ট কমপ্লেক্স ধ্বংসের নির্দেশ
এভারগ্র্যান্ড কিছু না বললেও বিরাট এ রিসোর্ট কমপ্লেক্স ভেঙে ফেলার পেছনের কারণ জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলো। খবর অনুযায়ী, চীনের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ প্রদেশ হাইনানে নির্মিত এ কমপ্লেক্সের ভবনগুলোয় নির্মাণ ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে স্থানীয় সরকার। পাশাপাশি এগুলো নগর পরিকল্পনা আইন অনুযায়ীও তৈরি করা হয়নি। সে কারণেই এসব ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ড্যাংঝৌ রাজ্য সরকার এভারগ্র্যান্ডকে দেয়া নির্দেশে বলেছে, তাদের এ প্রকল্প জাতীয় নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা আইন লঙ্ঘন করেছে। সেখানে এটাও বলা হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যদি ধ্বংসের উদ্যোগ না নেয়া হয়, তাহলে সরকারই এসব ভবন ধ্বংস করে দেবে।
এর আগে গত বছর ওশান ফ্লাওয়ার আইল্যান্ড নামে এভারগ্র্যান্ডের ওই প্রকল্পের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সরকার। ওই স্থানে একটি হোটেল কমপ্লেক্স, একটি বিনোদন পার্ক ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরির কথা ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ভবন নীতিমালা না মানায় সেগুলোকে জরিমানাও করা হয়েছে।
সোমবার থেকে হংকংয়ের পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত রাখতে আবেদন করে এভারগ্র্যান্ড। এ আবেদনের পরই সংস্থাটির লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়।
ওশান ফ্লাওয়ার দ্বীপের ওই রিসোর্ট কমপ্লেক্স ভেঙে ফেলার ফলে প্রতিষ্ঠানের কী পরিমাণ লোকসান হবে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দেয়নি এভারগ্র্যান্ড। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, একটি রিসোর্ট কমপ্লেক্স ভাঙার নির্দেশ দ্বীপের অন্য ভবনগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে না।
বিশ্বের রিয়েল এস্টেট খাতের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছে এভারগ্র্যান্ডের নাম। গত মাসেই সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য নিয়মনীতি পালন করতে গেলে নগদ অর্থের সংকটে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। এভারগ্র্যান্ড বলছে, তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি ডলার ও ঋণ রয়েছে ৩১ হাজার কোটি ডলার। বন্ডহোল্ডারদের অর্থ পরিশোধের জন্য দ্রুত সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টাও করছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে সময়মতো মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। ফলে এভারগ্র্যান্ডের অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ স্থগিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবারের ঘোষণায় বলা হয়, ২০২১ সালে এভারগ্র্যান্ডের কাছ থেকে সম্পত্তি কিনতে গ্রাহকরা যে চুক্তি করেছিলেন, তার আর্থিক মূল্য ৭ হাজার কোটি ডলার।
কোন মন্তব্য নেই