৪১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় চামড়া খাত - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

৪১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় চামড়া খাত


আন্তর্জাতিক বাজারে গত ৪১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠেছে চামড়া খাত। এখাতের পণ্য বিশেষ করে জুতোর দাম এই সময়ে সর্বোচ্চ বেড়েছে বলে মাসিক প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করেছে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো। চামড়া খাতে সু-বাতাস দেখা দেওয়ায় দেশের চামড়া কোম্পানিগুলোও এই সময়ে ভালো ব্যবসা করছে বলে জানা গেছে।


বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত চামড়া খাতের ছয়টি কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশে জুতো রপ্তানি করে আগে থেকেই বেশ ভালো মুনাফা করছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে যেভাবে জুতোর চাহিদা বেড়েছে, এতে করে চামড়া খাতের কোম্পানিগুলো আরও বেশি ভালো মুনাফা করতে পারবে বলে মনে করছে বাজার বিশ্লেষকরা।




এই বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত একাধিক কোম্পানির সাথে কথা বলেছে শেয়ারনিউজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কোম্পানির সচিব বলেন, বিশ্ববাজারে বর্তমানে জুতোর চাহিদা বেশ ভালো। বর্তমানে আমরা ভালো প্রাইস পাচ্ছি। তবে শুল্ক বেশি থাকার কারণে মুনাফা কিছুটা কম হচ্ছে। তবে আগের তুলোনায় বেশ ভালো অর্ডার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।


শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাসিক প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে জুতোর দাম বেড়েছে ৮.৫%। দর বৃদ্ধির এই হারটি ফেব্রুয়ারিতে ছিলো ৭.৯% এবং জানুয়ারীতে ছিল ৭.৫%।


শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ১৯৮১ সালের পর থেকে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জুতোর দর বেড়েছে চলতি বছরে। এরফলে এই খাত সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার প্রতিনিধিত্ব করছে। জুতোর দাম গত বছরের থেকে ৬.৫% বেড়েছে।




আমেরিকার ফুটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যান্ড রিটেইলারস (এফডিআরএ) এর তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের মার্চ মাসে জুতার দাম ৬.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭% এবং মে মাসে ৭.১% বৃদ্ধির পেয়েছে। যা প্রায় ৩৩ বছরের মধ্যে তৃতীয়-দ্রুততম দর বৃদ্ধির খাত হিসাবে আর্বিভূত হয়েছে।


পুরুষ এবং মহিলাদের চাহিদার আলোকে জুতোর দাম বেশি বেড়েছে মহিলাদের। তবে সর্বোচ্চ দাম বেড়েছে বাচ্চাদের জুতোর। তথ্য বলছে, পুরুষদের পাদুকা ৫.১%, মহিলাদের ৫.৮% এবং বাচ্চাদের ১১% বেড়েছে। বাচ্চাদের ফুটওয়্যারে স্পাইক ৩৩ বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্পাইক।


জুতার ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিশেষ করে জুতার মতো ভোগ্যপণ্যের উপর ভারী শুল্ক। এফডিআরএ উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে বাইডেন প্রশাসন বেশি শুল্ক দেওয়ার জন্য, যা জুতোর দাম বৃদ্ধিতে বেশি অবদান রেখেছে।


এফডিআরএ-এর মতে, জুতোর উপর শুল্কের পরিমাণ যদি ৪৮ শতাংশ হতে পারে, তাহলে খুচরা বাজারে ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধিতো হবেই৷ ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি আরও এগিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেল এবং খাদ্যের মতো চামড়া পণ্যের দামও বেড়েছে।


অ্যাডোবি ডিজিটাল প্রাইস ইনডেক্স (ডিপিআই) এর অনলাইন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য অনুসারে, মার্চ মাসে অনলাইন দাম বছরে ৩.৬% এবং মাসে ০.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসে পোশাকের দাম ১৬.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনলাইন মুদ্রাস্ফীতির জন্য স্ট্যান্ডআউট বিভাগে তৈরি করেছে।


ভোক্তারা সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউইয়র্কের মাইক্রোইকোনমিক ডেটা সেন্টার থেকে ভোক্তাদের প্রত্যাশার ২০২২ সালের মার্চ মাসের সমীক্ষা অনুসারে, মার্চ মাসে গ্রাহকরা বলেছে যে তারা আগামী বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৬.৬% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে। এই প্রত্যাশা ফেব্রুয়ারির হিসাবে প্রত্যাশিত এক বছরে ৬% বৃদ্ধির চেয়ে বেশি।

কোন মন্তব্য নেই