পাকিস্তানের পার্লামেন্টে কাল কী ঘটবে
আজ শুক্রবার ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশন আহ্বান করতে বাধ্য জাতীয় পরিষদের স্পিকার। ৩ এপ্রিলের আলোচ্যসূচির সঙ্গে মিল রেখে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই এই অধিবেশন শুরু করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়, ‘৩ এপ্রিলের কার্যসূচি অনুযায়ী হাউসের কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয় পরিষদের চলতি অধিবেশনে বৈঠক আহ্বানে স্পিকারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হওয়া উচিত, কোনোভাবেই শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার পরে নয়।’
ধারণা করা হচ্ছে, শনিবারের অধিবেশনের কার্যসূচি আজ শুক্রবার জারি করতে পারে জাতীয় পরিষদের সচিবালয়। প্রস্তাবের ভোটাভুটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত করা যাবে না।
গত ৭ মার্চ জাতীয় পরিষদের সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধী দলগুলো। এরপর ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার। প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির জন্য ৩ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়। ওই দিনের কার্যসূচিতে প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিসহ ছয়টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরপর ৩ এপ্রিল বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা দিয়ে খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি। একই সঙ্গে অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। তবে ক্ষুব্ধ বিরোধী দলগুলো নিজেরাই অধিবেশন চালিয়ে যান। তারা পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) আইনপ্রণেতা আইয়াজ সাদিককে স্পিকার নির্বাচিত করেন। অনাস্থা প্রস্তাব ১৯৭ ভোটে পাস করেন। অনাস্থা প্রস্তাব পাসে ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে ১৭২ ভোট প্রয়োজন।
অনাস্থা ভোট খারিজের দিনই স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) শুনানি গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্ট। টানা পাঁচ দিনের দীর্ঘ শুনানি শেষে অনাস্থা ভোট খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গতকাল বৃহস্পতিবার রায় দেন আদালত। একই সঙ্গে জাতীয় পরিষদ পুনর্বহাল করে শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পিকার আসাদ কায়সারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব থাকলেও তিনি শনিবারের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন না। ৩ এপ্রিল অধিবেশন শুরুর আগমুহূর্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে স্পিকারের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধীরা।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৩ (৪) অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সভার সভাপতিত্ব করতে পারবেন না যদি তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে কোনো প্রস্তাব আনা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইন অনুযায়ী আসাদ কায়সার কেবল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা ভোট চলাকালে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করতে পারবেন না। তিনি শনিবারের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন।
অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে ইমরান খানই হবেন অনাস্থা ভোটে বিদায় নেওয়া পাকিস্তানের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়েও টিকে যান। সেনা হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা পাকিস্তানে কোনো প্রধানমন্ত্রীই তাঁদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। তবে ইমরানকে বিদায় নিতে হচ্ছে পার্লামেন্টে আনা অনাস্থা ভোটে।

কোন মন্তব্য নেই