ই উ ক্রে ন ই স্যু ফের ভোটদানে বিরত বাংলাদেশ - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

ই উ ক্রে ন ই স্যু ফের ভোটদানে বিরত বাংলাদেশ

 

ভয়াবহ ও সিস্টেমেটিক ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের কারণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটে সংস্থাটির মানবাধিকার পরিষদ থেকে রাশিয়াকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জবাবে রাশিয়া জানিয়েছে, আগেই এ পরিষদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ দেশের সমর্থনে রাশিয়ার পদ সাসপেন্ড করা হয়। পরিষদের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ৯৩টি সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ২৪টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে ৫৮টি দেশ। এর মধ্যে আছে  বাংলাদেশ, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার, কুয়েত, ইরাক, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া। এর আগেও ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে জাতিসংঘে ভোটদানে বিরত ছিল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ বেশকিছু দেশ।

প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে চীন বলেছে, এর ফলে আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা সৃষ্টি হবে। শান্তি প্রচেষ্টা বিপর্যস্ত হবে। এ খবর দিয়েছে জাতিসংঘের অনলাইন ইউএন নিউজ। এতে বলা হয়, প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যেসব দেশ তার মধ্যে আছে রাশিয়া, চীন, কিউবা, উত্তর কোরিয়া, ইরান, সিরিয়া, ভিয়েতনাম প্রভৃতি। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাশিয়ার সেনারা যে আইন লঙ্ঘন করেছে তা নিয়ে বিশেষ জরুরি এই অধিবেশন বসে বৃহস্পতিবার। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের বুচা শহর থেকে হতাশাজনক, হৃদয়বিদারক ছবি প্রকাশিত হয়।  রাশিয়ার সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়ার পর রাজধানী কিয়েভের পার্শ্ববর্তী এই শহরে রাস্তায় রাস্তায় লাশের সারি দেখা যায়। গণকবরে শত শত লাশ। এসব ছবি, ভিডিও দেখে বিবেকবান মানুষের আত্মা কেঁদেছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে রাশিয়ার সদস্যপদ সাসপেন্ড করার প্রস্তাবের পূর্বেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিস্তিয়া সদস্য দেশগুলোর প্রতি এতে সমর্থন দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বুচা ও ডজন ডজন শহরে, গ্রামে শান্তিপূর্ণ হাজার হাজার অধিবাসীকে হত্যা করেছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। তাদেরকে নির্যাতন করেছে। ধর্ষণ করেছে। অপহরণ করেছে। ডাকাতি করেছে। মানবাধিকারের প্রাথমিক ঘোষণার থেকে এর মধ্য দিয়ে রাশিয়া ফেডারেশন নাটকীয়ভাবে বহুদূরে সরে গেছে। এ  জন্য এ ঘটনাটি ব্যতিক্রম। ওদিকে প্রস্তাবটি ভোটে দেয়ার আগে রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত গেন্নাডি কুজমিন সদস্য দেশগুলোকে পশ্চিমাদের আনা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে সাসপেন্ড করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনের সময়ে সেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের কারণে দেশটির  সদস্যপদ ২০১১ সালে বাতিল করা হয়। এর আগে জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রস্তাবে ভোট হয় রোয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের গণহত্যার বার্ষিকীতে। রোয়ান্ডার অন্ধকারময় ইতিহাসের সঙ্গে ইউক্রেনের পরিস্থিতিকে মিলিয়ে দেখান দেশটির রাষ্ট্রদূত। ওদিকে মঙ্গলবার ইউক্রেনের বুচা শহরে বেসামরিক নাগরিক হত্যার রিপোর্টে গভীর হতাশা প্রকাশ করে এর নিন্দা জানায় নয়া দিল্লি। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তে তাদের সমর্থনও প্রকাশ করে। জোর দিয়ে বলা হয়, নিরপরাধ মানুষের জীবন যখন বিপন্ন তখন কূটনীতিকে অবশ্যই জয়ী হতে হবে। এটাই  একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মঙ্গলবার প্রথমবার ভাষণ দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। এই মিটিংয়েই জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত টিএস তিরুমূর্তি বলেন, সর্বশেষ যখন এ ইস্যুতে পরিষদ আলোচনা করেছে তারপর থেকে ইউক্রেন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির শুধুই অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক বিপর্যয়ও হয়েছে। অ্যান্টিগুয়া ও বারমুডা, কানাডা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, জর্জিয়া, জাপান, লাইবেরিয়া, মলদোভা, ইউক্রেন, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭ জাতির পক্ষে হেড অব ডেলিগেশনের আহ্বানে বৃহস্পতিবার  সাধারণ পরিষদের জরুরি বিশেষ অধিবেশন বসে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গড়ে ওঠে ৪৭টি সদস্যকে নিয়ে। এর মূল অফিস জেনেভাতে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এই পরিষদে যোগ দেন রাশিয়া। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ তিন বছর মেয়াদে যে ১৫টি দেশকে নির্বাচিত করে, তার মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। ২০০৬ সালের এক রেজুলেশনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই পরিষদ। ভয়াবহভাবে মানবাধিকারের অভিযোগে যদি কোনো সদস্য অভিযুক্ত হয়, তাহলে তার সদস্যপদ সাসপেন্ড করতে পারে সাধারণ পরিষদ। ওদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর দেশটির স্থায়ী উপ-প্রতিনিধি কুজমিন আকস্মিকভাবে বলেন যে, রাশিয়া এরই মধ্যে ওই দিনই এই পরিষদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মেয়াদ শেষের আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন কিছু রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি গ্রুপের মনোপলিতে পরিণত হয়েছে এই পরিষদ। এটাকে তারা তাদের স্বল্প মেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন আশঙ্কা করেছেন, সাধারণ পরিষদ তড়িঘড়ি করে এমন পদক্ষেপ নেয়ায় আগুনে ঘি ঢালার মতো হতে পারে। এর ফলে বিভক্তি বাড়বে, সংঘাত বৃদ্ধি পাবে এবং শান্তি প্রচেষ্টা বিপন্ন হবে।   

কোন মন্তব্য নেই