এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাব বিক্রি বাড়বে ১.৫%
গত বছর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাবলেট পিসি বিক্রি বছরওয়ারি ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ইউনিট। গত কয়েক বছরের এ প্রবণতাকে সামনে রেখে চলতি বছরেও চাঙ্গা বিক্রির আশা করছেন ট্যাব বিক্রেতারা।
আইডিসির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক জেনিফার কেওয়ান বলেন, ২০২১ সালজুড়ে বিভিন্ন মাত্রার লকডাউনের মধ্য দিয়ে গেছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভিন্ন দেশ। এতে ই-লার্নিং, হোম এন্টারটেইনমেন্ট ও ঘরে বসে কাজের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এতে ট্যাবের চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।
কেওয়ান আরো বলেন, অনেকেই প্রথমবারের মতো ট্যাব কিনছেন, যাতে এ অঞ্চলে ট্যাব বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। বেশির ভাগ ট্যাব বিক্রেতা কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় ট্যাব বাজারের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হয়নি।
আইডিসি বলছে, প্রধান বিক্রেতাদের সরবরাহ সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং নতুন ভেন্ডরের প্রবেশের ফলে ট্যাবলেট সরবরাহ উন্নত হবে। গত বছর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাজারে ট্যাব নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে শাওমি ও রিয়েলমি। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন মডেলের ট্যাব বাজারে এনেছে চীনা কোম্পানি দুটি। চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের পথ অনুসরণ করেছে নকিয়া ও মটোরোলা।
চলতি বছরে আরো অনেক বিক্রেতা ট্যাব উন্মোচন করতে পারে। এ তালিকায় এগিয়ে আছে অপো ও ভিভো। আইডিসির বিশ্লেষক কেওয়ান বলেন, ট্যাব বাজারে অনেক স্মার্টফোন বিক্রেতা কোম্পানি এগিয়ে আসছে তা বেশ মজার ব্যাপার। এতে সরবরাহ সংকট মোকাবেলা করা সহজতর হচ্ছে এবং বাজারে পণ্যে বৈচিত্র্য আসছে।
আইডিসির উপাত্তে দেখা গেছে, গত বছর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অ্যাপলের ট্যাব বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ইউনিট। এতে ট্যাব বাজারে অ্যাপলের বাজার হিস্যা ছিল ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ। হুয়াওয়েকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। গত বছর এ অঞ্চলে স্যামসাংয়ের ট্যাব বিক্রি হয়েছে ৮০ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটির বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে কোণঠাসা হলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয় স্থান হুয়াওয়ের। গত বছর ৭২ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট ট্যাব বিক্রি করেছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টটি। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ট্যাব বাজারে হুয়াওয়ের হিস্যা ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

কোন মন্তব্য নেই