নিউজ ফাস্ট

অবৈধ ঋণ প্রদান অ্যাপের কার্যক্রম বন্ধে চাপের মুখে গুগল


অবৈধ ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনাকারী অ্যাপগুলোর কার্যক্রম বন্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে গুগলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার ও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে। এটি সম্পাদনে প্রযুুক্তি জায়ান্টটি চাপের মুখে রয়েছে। খবর রয়টার্স।


ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) আওতায় না থাকলেও গত কয়েক মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে চারটি সূত্রে জানা গিয়েছে। মূলত এসব অ্যাপের অবৈধ ঋণ প্রদান কার্যক্রম বন্ধে আরো কঠোর নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


ভারতের নিয়ন্ত্রকরা এরই মধ্যে ঋণ প্রদানকারীদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া গ্রহণের কথা জানিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর সময় এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। অতিরিক্ত সুদহার, চার্জ ফি নেয়া কিংবা ঋণের অর্থ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অননুমোদিত পদ্ধতি, অর্থ পাচার বা অন্যান্য সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এমন অসাধু কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অ্যাপগুলোর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।


এক বিবৃতিতে গুগল জানায়, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক পরিষেবা অ্যাপগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্লেস্টোরে ডেভেলপার প্রোগ্রাম নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছিল। এর মধ্যে ভারতে ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ অ্যাপ নীতিও ছিল, যার ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টটির একজন মুখপাত্র বলেন, প্লেস্টোরের নীতিমালা ভঙ্গের কারণে ভারতে প্রচলিত দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিগত ঋণ প্রদান অ্যাপ অপসারণ করা হয়েছে। শুধু নীতিমালা ভঙ্গ হলেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। এ সমস্যা সমাধানে আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব।



ঋণ প্রদান অ্যাপগুলো অ্যাপ স্টোরে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও সামগ্রিক বিষয় দেখভাল ও তদারকির দায়িত্ব গুগলের ওপরই বর্তায়। এ বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি শিল্প সূত্রে জানা যায়, ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওয়েবসাইট বা ডাউনলোডের অন্যান্য মাধ্যমের সহায়তায় এসব অ্যাপের উত্থান কমাতেও গুগলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গুগল এরই মধ্যে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে।


গুগলের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, এর আগে গুগল আলাদা অ্যাপ থেকে অভিযোগ এলে সেগুলো আমলে নিত না। বর্তমানে তাদের কার্যক্রম বেড়েছে এবং কোনো অভিযোগের বিষয়ে জানানো হলে তারা সেটি দেখছে। ঋণ প্রদানে অনুমোদিত অ্যাপের সাদা তালিকা তৈরিতে কাজ করছে ভারত সরকার ও আরবিআই। এছাড়া ঋণ প্রদান বা গ্রহণে এবং পুনরুদ্ধারে একজন গ্রহীতাকে অবশ্যই কোনো ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ রেখে নিয়ম নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


ভারতের বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করা হলেও কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য দেয়নি। ভারতের ডিজিটাল ঋণ প্রদান বাজার দ্রুতগতিতে বেড়েছে এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২২০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। এ পরিমাণ অর্থের মধ্যে কতগুলোর সঙ্গে অবৈধ পদ্ধতি জড়িত সে বিষয়ে জানা যায়নি। এসব অ্যাপের ঋণদাতারা প্রায় সময়ই ফেসবুক ও গুগলের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়।

কোন মন্তব্য নেই