নিজস্ব ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে মার্সিডিজ
বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাণে অন্যদের চেয়ে অনেকাংশেই এগিয়ে রয়েছে টেসলা। ইভি বিক্রির মাধ্যমে আয় ও মুনাফা অর্জনের রেকর্ডও রয়েছে মার্কিন সংস্থাটির। টেসলাকে টেক্কা দিতে এবার তাই নতুন ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে মাঠে নামছে মার্সিডিজ বেঞ্জ। এবার জার্মান বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে নিজস্ব ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। যার শুরুটা হবে উত্তর আমেরিকা থেকে। খবর রয়টার্স।
মার্সিডিজ বেঞ্জ গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে সিইএস গ্যাজেট শোতে জানায়, চলতি বছর ১০০ কোটি ইউরো খরচে উত্তর আমেরিকায় ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ শুরু করা হবে। ইউরোপ, চীনসহ অন্যান্য বাজারেও এ ধরনের চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করবে সংস্থাটি। দশকের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক তৈরির কার্যক্রম সম্পন্ন করে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির কার্যক্রমে গতি সঞ্চার করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
মার্সিডিজ বেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ওলা ক্যালেনিয়াস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাদের পূর্ণ নেটওয়ার্কে দুই হাজারটিরও বেশি চার্জিং স্টেশন ও বিশ্বব্যাপী ১০ হাজারটিরও বেশি প্লাগ থাকবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, মার্সিডিজ-ব্র্যান্ডেড নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত থাকবে সব বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মালিকদের জন্য। তবে শুধু মার্সিডিজের মালিকরাই চার্জিং পোর্ট সংরক্ষণ ও অন্যদের তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার পাবেন।
এ পদক্ষেপ মূলত কোম্পানিটিকে টেসলার সঙ্গে প্রতিযোগিতা জোরদারে সহায়তা করবে। টেসলার ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী কোম্পানিটির ৪০ হাজারের বেশি চার্জিং পোর্ট রয়েছে। তবে টেসলার এ নেটওয়ার্ক বেশির ভাগই নিজস্ব ব্যবহারকারীদের একচেটিয়া ব্যবহারের জন্য। যদিও সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক জানিয়েছেন, অন্যদের এটি ব্যবহার করতে দেয়ার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
এ ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে টেসলা মূলত অন্যান্য ইভি ব্র্যান্ডের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে মার্সিডিজ বেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিটি স্টেশনে ৩৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত চার্জিং পাওয়ারসহ চার থেকে ১২টি পোর্ট থাকবে। উত্তর আমেরিকার নেটওয়ার্ক তৈরির খরচ আমেরিকার বৃহৎ সৌরশক্তি ও ব্যাটারি স্টোরেজ অপারেটর এমএন৮-এর সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নেবে সংস্থাটি।
মার্সিডিজের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মার্কাস শেফার বলেন, নেটওয়ার্কটি গ্রাহকদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং চার্জিং স্টেশন খুঁজে পাওয়া বিষয়ক উদ্বেগগুলোর সমাধান করবে। তিনি আরো বলেন, ‘অন্যরা যখন চার্জিং নেটওয়ার্কগুলো তৈরি করতে শুরু করছিল, তখন আমরা ভেবেছিলাম আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে, এ বিষয়ক উদ্যোগ নিতে হবে এবং আমাদের ব্র্যান্ডেড গ্লোবাল মার্সিডিজ বেঞ্জ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে।’
জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির বিপরীতে বিশ্বব্যাপী ক্রমেই বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাজিয়ে নিচ্ছে ইভি নির্মাতা এ প্রতিষ্ঠান। ব্যবহারকারীরা যেন সহজে গাড়ি চার্জ দিতে পারে, সেজন্য চার্জিং হাবগুলো প্রধান প্রধান শহর, সড়ক, খুচরা দোকান ও রেস্তোরাঁর কাছাকাছি তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, এ অবস্থায় অনেকেই হয়তো মার্সিডিজ ডিলারশিপ নিতে চাইবে। শেফার বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের গ্রাহকরা উত্তর আমেরিকায় কোথায় আছে, আমরা জানি আমরা কোথায় বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করছি। তাই চার্জিং স্টেশনগুলো নিরাপদ, নান্দনিক ও আলোকিত স্থানে থাকবে। কোনো ময়লা ফেলার স্থান বা শপিং সেন্টারের পেছনের গ্যারেজে নয়।’

কোন মন্তব্য নেই