তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরো কর্মী হারাবে রাশিয়া
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকলেও রাশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি খাত আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। যুদ্ধ শুরুর পর হাজার হাজার অধিবাসী দেশত্যাগ করেছে। তাদের ফেরত আনতে রিমোট ওয়ার্কিংয়ের নতুন আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে রাশিয়া। তবে এ আইন কার্যকর হলে দেশটি এ খাতের আরো কর্মী হারাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যেকোনো জায়গায় কাজের সুযোগ থাকায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সেনাবাহিনী পাঠানোর পর রাশিয়ান অধিবাসীরা দেশ ত্যাগ করতে থাকে। সেপ্টেম্বরে যখন সেনাবাহিনীতে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয় তখনো অনেকে দেশ ত্যাগ করে। এদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
দেশটির সরকারের ধারণা, বর্তমানে ১ লাখের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাশিয়ার জন্য কাজ করছে। বর্তমানে কিছু পেশায় রিমোট ওয়ার্কিং বন্ধে আইন প্রণয়নের কথা ভাবছেন নীতিনির্ধারকরা। আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা হয়তো ন্যাটো অধিভুক্ত দেশগুলোয় কাজ করার জন্য স্থানান্তরিত হতে পারে। আর এর মাধ্যমে তারা নিজেদের অজান্তে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। এজন্য কিছু তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ যেন রাশিয়া ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন।
বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে রাশিয়ার ডিজিটাল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে রাশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি খাত কম কার্যকর ও প্রতিযোগিতা বিমুখ হয়ে পড়বে। সব কথার শেষ কথা, পৃথিবীর যেকোনো দেশ মেধাবীদের কাজ দেয়ার জন্য আকৃষ্ট করতে পারলে লাভবান হবে। রাশিয়ার অনেক তরুণ লাটভিয়া, জর্জিয়া ও আর্মেনিয়ায় চলে গেছে। কেউ কেউ আর্জেন্টিনায়ও চলে গেছে।
রাশিয়ার একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জানান, কোনো কারণেই আর রাশিয়ায় ফিরে আসবেন না। তিনি বলেন, আমি কিছু সময়ের জন্য থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি রাশিয়ায় কোনো জীবন নেই। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বা স্টেট ডুমার শক্তিশালী চেয়ারম্যান ব্যাচেস্লাভ ভোলোডিন যেসব কর্মী বিদেশ চলে গেছে তাদের ওপর উচ্চ করহার আরোপের কথা জানান।
২৬ বছর বয়সী পণ্য ডিজাইনার ইউরিয়া জানান, রাশিয়ার চাপের মুখে তার দলের এক-চতুর্থাংশ কাজ ছেড়ে দেয়ার পক্ষে। কিন্তু কেউই রাশিয়ায় ফিরতে চান না। তিনি বলেন, কোনো বিকল্প ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ অনেকটা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কথা বলার মতো। হয় ফিরে এসো না হলে তোমার প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের কাজ করার সুযোগ এবং পরিবেশ কঠিন করে দেয়া হবে।
রাশিয়ার কিছু প্রবাসীর ওপর থেকে কর সরিয়ে নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। যারা রাশিয়ায় বসবাস করে তাদের আয় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৩ শতাংশ কর কেটে নেয় দেশটির সরকার, কিন্তু যারা বিদেশ থেকে রাশিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে তাদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী পেশাদার অনলাইন পোকার খেলোয়াড় শাসা বর্তমানে আর্জেন্টিনায় বসবাস করেন। তিনি জানান, এখন তিনি রাশিয়াকে কর দেন না। তিনি বলেন, যখন আপনি কর দেবেন তখন রাশিয়া সরকার ও তার সামরিক বাহিনীর বিস্তার ঘটাতে অর্থ দিচ্ছেন। আমি এখন অর্থ দিই না আর ভবিষ্যতে দেয়ার পরিকল্পনাও নেই।

কোন মন্তব্য নেই