স্মার্টফোন চিপের সরবরাহ থাকলেও সংকটে গাড়ি উৎপাদন - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

স্মার্টফোন চিপের সরবরাহ থাকলেও সংকটে গাড়ি উৎপাদন


কভিড-১৯ মহামারীর পর বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টরের সংকট শুরু হয়। মূলত কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদার সঙ্গে সংকটও বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চাহিদা কমলে সেমিকন্ডাক্টরের মজুদ বাড়তে থাকে। চাহিদা না থাকায় সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। ২০২৩ সালেও এ সমস্যার সমাধান হবে না। অন্যদিকে চিপ সংকটের কারণে গাড়ি উৎপাদনে যে মন্থর গতি তৈরি হয়েছে সেটিও বছরজুড়ে চলমান থাকবে। খবর ফ্রিমালয়েশিয়াটুডে।


স্মার্টফোন, ট্যাবসহ অন্যান্য ডিভাইস ক্রয়ে গ্রাহকদের চাহিদা কমে যাওয়ায় চিপের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আয় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় মাইক্রন টেকনোলজির সঞ্জয় মেহরোত্রা বলেন, ১৩ বছরের মধ্যে চিপ শিল্প খাতটি ডির্যাম ও ন্যান্ড মেমোরি চিপের সরবরাহ ও চাহিদায় সামঞ্জস্য আনতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি আগের বছরের তুলনায় সেপ্টেম্বর-নভেম্বর প্রান্তিকে ৪৭ শতাংশ রাজস্ব হারানোর কথা জানিয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের জরিপের পরিপ্রেক্ষিতে এক পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আগে স্মার্টফোন চিপের অতিরিক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের হিসেবে তৃতীয় প্রান্তিকে সরবরাহ সর্বোচ্চে পৌঁছবে। এরপর স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। অন্যদিকে ডাটা সেন্টারগুলোয় সেমিকন্ডাক্টরের অতিরিক্ত সরবরাহ নতুন বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত চলমান থাকবে। বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। আর এটি ডাটা সেন্টার চিপের চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলছে।


সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হয়। বর্তমানে যেসব উৎপাদনকারী রয়েছে তারা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকেই তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। মাইক্রন, জাপানের চিপ উৎপাদনকারী কিওক্সিয়াসহ অন্যান্য সরবরাহকারী গত অক্টোবর থেকে উৎপাদন কমিয়ে ইনভেন্টরি সংশোধনে মনোনিবেশ করেছে। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ার সঙ্গে এ উদ্যোগ সামঞ্জস্য আনতে পারেনি।


অক্টোবরে আয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) সিইও সিসি ওয়েই আশা প্রকাশ করে বলেন, সরবরাহকে স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চলতি বছরের প্রথম অর্ধেক চলে যাবে।


স্মার্টফোনের চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহের বিষয়টি পুনরায় ঢেলে সাজাচ্ছে, সেখানে গাড়ি উৎপাদন শিল্প এখনো সংকটে। টোকিওভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান কোরস্টাফ জানায়, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের কোনো একটি উপাদান না থাকলে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা হয় সেগুলোর পর্যাপ্ত মজুদের বিষয়টিও কঠিন। সে হিসেবে নতুন বছরের পুরো সময়জুড়ে গাড়ি উৎপাদনে ব্যবহূত সেমিকন্ডাক্টরের সংকট থাকবে। শুধু গাড়ি উৎপাদনকারীরাই যে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে তা নয়। প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে বর্তমানে যে পরিমাণ চিপের প্রয়োজন হয় সেটি এ খাতে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে গড়ে ১ হাজার ৬০০ ডলার মূল্যে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার করতে হয়, যেখানে গ্যাসোলিনচালিত গাড়িতে মাত্র ৫০০ ডলার ব্যয় করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোর্স ইঞ্জিনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাসে পাওয়ার সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহের সময়সীমা ছিল ৩১ থেকে ৫১ সপ্তাহের মধ্যে। নভেম্বরের শেষে তা বেড়ে ৩৯ থেকে ৬৪ সপ্তাহে উন্নীত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই