মৃত সাপও ছড়াতে পারে বিষ! নতুন গবেষণা বলছে বিপদের কথা
মৃত সাপও ছড়াতে পারে বিষ! নতুন গবেষণা বলছে বিপদের কথা
গবেষণায় দেখা গেছে, সাপের মৃত্যু তাকে নিরাপদ করে না। ভারতের নতুন একটি গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, কিছু সাপ মৃত্যুর পরও বিষ ছড়াতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে গোখরা (কোবরা) ও কালকেউটে (ক্রেইট)। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরও তাদের দাঁত থেকে বিষ বের হয়ে মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
গবেষণার বিস্তারিত
গবেষণাটি আসামের নামরূপ কলেজের অধ্যাপক সুশমিতা ঠাকুরের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে এবং Frontiers in Tropical Disease Journal-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত ধারণা ছিল, মৃত সাপের বিষ ছড়ানোর ক্ষমতা কেবল র্যাটেলস্নেক বা থুতু নিক্ষেপকারী সাপেরই থাকে। তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে ভারতীয় মনোকল্ড গোখরা ও ক্রেইট প্রজাতির সাপ মৃত্যুর পরও কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিষ ছড়াতে পারে।
গবেষকেরা তিনটি প্রমাণসাপেক্ষ ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো আসামের গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রেকর্ডে সংরক্ষিত।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
১. মুরগি রক্ষা করতে গিয়ে কামড়
এক ব্যক্তি তার মুরগিকে আক্রমণ করা গোখরাকে শিরচ্ছেদ করে মেরে ফেলেন। কিছুক্ষণ পরে মৃত সাপটি তার আঙুলে কামড় দেয়। তার হাতে ও কাঁধে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, বারবার বমি হয় এবং আঙুল কালো হয়ে যায়। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ও ব্যথানাশক পেয়ে ২০ দিনের পর সুস্থ হন।
২. ট্রাক্টরের চাপা পড়া সাপ
এক কৃষক ট্রাক্টর চালানোর সময় গোখরা চাপা পড়ে মারা যায়। কয়েক ঘণ্টা পর মৃত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড়ের জায়গায় ফোলা ও ব্যথা দেখা দেয়, বমিও শুরু হয়। গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা না হলেও আলসার তৈরি হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, সাপ তখনো বিষ ছড়াতে সক্ষম ছিল।
৩. কালকেউটে ও পক্ষাঘাত
এক বাড়িতে ঢুকে পড়া কালকেউটেকে মারার পর প্রতিবেশী মৃত সাপটির মাথা হাতে তুলতেই কামড় খান। চোখের পাতা ঝুলে যায়, গিলতে অসুবিধা দেখা দেয়। ২০টি ভায়াল অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন ও শ্বাসযন্ত্রের সহায়তায় ৪৩ ঘণ্টার পর অবস্থা স্থিতিশীল হয়। ছয় দিনের চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরেন।
গবেষকরা কী বলছেন
-
সাপের বিষগ্রন্থি দাঁতের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
-
মাথা বিচ্ছিন্ন হলেও দাঁতের আশপাশে চাপ পড়লে বিষ বের হয়।
-
তাই মৃত সাপও জীবন্ত সাপের মতো বিপজ্জনক।
গবেষণা সতর্ক করেছে, মৃত সাপকেও অবহেলা করা যাবে না। মৃত সাপ নাড়াচাড়া করার সময় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া জরুরি।
📌 কীওয়ার্ড: মৃত সাপ, গোখরা, কালকেউট, সাপের কামড়, অ্যান্টিভেনম, সাপের বিষ, বিপদজনক সাপ
কোন মন্তব্য নেই