বাংলাদেশি নারী পাচারে জড়িত ‘গুরুমাতা জ্যোতি’ গ্রেপ্তার: উন্মোচিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

বাংলাদেশি নারী পাচারে জড়িত ‘গুরুমাতা জ্যোতি’ গ্রেপ্তার: উন্মোচিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র

 

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

বাংলাদেশি নারী পাচারে জড়িত ‘গুরুমাতা জ্যোতি’ গ্রেপ্তার: উন্মোচিত আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র


টাইমস এক্সপ্রেস ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:২৮

ভারতের মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন কুখ্যাত মানব পাচারকারী ‘গুরুমাতা জ্যোতি’। তদন্তে জানা গেছে, এই ব্যক্তি আসলে একজন রূপান্তরকামী ও প্রতারক, যার প্রকৃত নাম বাবু আয়ান খান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘জ্যোতি’ নামের ছদ্মবেশে বাংলাদেশ থেকে নারী পাচারের বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন।

২০০-র বেশি বাংলাদেশি নারী পাচারের অভিযোগ
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, জ্যোতির নেতৃত্বে অন্তত ২০০ জন বাংলাদেশি নারী উন্নত জীবনের প্রলোভনে ভারতে পাচার হয়েছেন। প্রথমে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে জাল জন্মসনদ ও শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে তাদের মুম্বাই পাঠানো হতো। সেখানে গিয়ে ওই নারীদের জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।

অমানবিক পরিবেশে আটক রেখে অর্থ আদায়
ভুক্তভোগীদের ছোট ঘরে গাদাগাদি করে রাখা হতো—প্রতি ঘরে ৩-৪ জন করে। প্রতিমাসে ৫-১০ হাজার রুপি ভাড়া দিতে বাধ্য করা হতো, যা পাচারকারী চক্রের হাতে যেত। অনেককে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সরকারি ফ্ল্যাট দখল করে লাখ লাখ রুপি আয়
মানব পাচারের পাশাপাশি জ্যোতির বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MHADA)–এর প্রায় ২০০টি সরকারি ফ্ল্যাট জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এসব ফ্ল্যাট ভুয়া পরিচয়ে অন্যদের নামে ভাড়া দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতেন।

‘গুরুমাতা’ পরিচয়ে অপরাধ সাম্রাজ্য
জ্যোতি নিজেকে ‘গুরুমাতা’ বা আধ্যাত্মিক নারী হিসেবে পরিচিত করান এবং বলিউডকেন্দ্রিক প্রায় ৩০০ জন অনুগামী তৈরি করেন। এই প্রভাবশালী অবস্থান ব্যবহার করে তিনি তার অপরাধচক্রকে রক্ষা করতেন এবং নতুন ভুক্তভোগী সংগ্রহে কাজে লাগাতেন।

বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার সম্ভাবনা
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক, যিনি অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশ করে বছরের পর বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তার মোবাইল, ব্যাংক হিসাব এবং সহযোগীদের যোগাযোগ তালিকা এখন পুলিশের হেফাজতে।

পুলিশ ধারণা করছে, এই চক্রের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার বেশ কয়েকজন দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত আছে। পুরো নেটওয়ার্কটি ধ্বংসে এখন আন্তঃদেশীয় তদন্ত চলছে।

কোন মন্তব্য নেই