গাজায় যুদ্ধবিরতির পর জীবনের লড়াই: নারীদের শোক, ক্লান্তি আর নতুন আশার গল্প
গাজায় যুদ্ধবিরতির পর জীবনের লড়াই: নারীদের শোক, ক্লান্তি আর নতুন আশার গল্প
ফিচার ডেস্ক || টাইমস এক্সপ্রেস ২৪
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫০
দীর্ঘ ৭০০ দিনের সহিংসতা শেষে অবশেষে যুদ্ধবিরতির মুখ দেখেছে গাজা। তবু শান্ত হয়নি আকাশ, ক্ষতও শুকায়নি মানুষের মনে। ভেতরে জমেছে শোক, ক্লান্তি আর তবুও টিকে থাকার এক অনমনীয় আশা।
রেডিও চ্যানেল এনপিআর–কে সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক শরৌক আল আইলা বলেন, “আজ সকালে খুব অদ্ভুত লাগছিল। কারণ, বিমান হামলা বা বিস্ফোরণ ছাড়া প্রথমবার গভীর ঘুমাতে পেরেছি।”
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্বামীকে হারানো এই সাংবাদিক এখন একমাত্র কন্যাকে নিয়ে বেঁচে আছেন। তাঁর মেয়েটি জীবনের অর্ধেক সময় কেটেছে খাবার, দুধ, ওষুধ ও পানির অভাবে। দুর্ভিক্ষের কারণে সে ক্যান ফুড খেয়েই বড় হয়েছে—ফলে ফলমূল চেনেই না সে।
জাতিসংঘের নারী সংস্থা ইউএন উইমেন জানিয়েছে, গাজার ১০ লাখের বেশি নারী ও কিশোরীর খাদ্যসহায়তা প্রয়োজন, এবং প্রায় আড়াই লাখ নারী জরুরি পুষ্টি সহায়তার অভাবে ভুগছেন।
আরেক তরুণী, কলেজ শিক্ষার্থী শাইমা আহমেদ, এই যুদ্ধে পরিবারের ৭০ সদস্যকে হারিয়েছেন। কেউ নিহত, কেউ নিখোঁজ, কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে। তিনি বলেন, “আমাদের শোকেরও আর কোনো জায়গা নেই।”
তবু পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন শাইমা—বেঁচে থাকার কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাকে।
গাজার নারীরা এখন নতুন এক যুদ্ধ লড়ছেন—বেঁচে থাকার, পুনর্গঠনের ও ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই। গাজার প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন নারী এখন পরিবারের হাল ধরেছেন।
উইমেনস অ্যাফেয়ার্স সেন্টারের কর্মী আমাল বলেন, “আমরা এখানে মৃত্যুকে আর বুঝতে পারি না। মৃত্যু এখন সংখ্যায় পরিণত হয়েছে। যেন আমরা কখনো ছিলামই না।”
তবু নারীরা হাল ছাড়ছেন না। তাঁদের বিশ্বাস—গাজার পুনর্গঠন নারীদের হাত ধরেই সম্ভব। আমালের ভাষায়,
“গাজা পুনর্গঠন করার আগে আমাদের নারী হিসেবে, ফিলিস্তিনি হিসেবে নিজেদের পুনর্গঠন করতে হবে।”

কোন মন্তব্য নেই