হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন? জীবন বাঁচাতে জরুরি করণীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
হার্ট অ্যাটাক একটি জীবনঝুঁকিপূর্ণ জরুরি অবস্থা। হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ঠান্ডা ঘাম দেখা দিলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কী করবেন। অথচ দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়ে। তাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চেনার পাশাপাশি জরুরি সময়ে করণীয় জানা জরুরি।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী?
হার্ট অ্যাটাকের সময় সবার শরীরে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি বা ব্যথা।
কয়েক মিনিট ধরে ব্যথা থাকা অথবা ব্যথা কমে আবার ফিরে আসা।
এক বা দুই হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি।
শ্বাসকষ্ট।
অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব বা বমি।
মাথা ঘোরা, দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি।
নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বুকব্যথা ছাড়াও অন্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।
হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
১. জরুরি চিকিৎসাসেবা ডাকুন
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করুন। বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাইতে পারেন।
২. রোগীকে বিশ্রামে রাখুন
রোগীকে আরামদায়ক অবস্থায় বসিয়ে বা হেলান দিয়ে রাখুন। হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম করতে দেবেন না।
৩. রোগীকে একা রাখবেন না
চিকিৎসাসহায়তা আসা পর্যন্ত রোগীর পাশে থাকুন। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও সচেতনতার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।
৪. অ্যাসপিরিন দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন
প্রাপ্তবয়স্ক রোগী সচেতন থাকলে এবং অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকলে, চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে জরুরি চিকিৎসাসেবার নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তবে ওষুধ দেওয়ার জন্য জরুরি চিকিৎসা ডাকতে দেরি করবেন না। সন্দেহ থাকলে চিকিৎসাসেবার পরামর্শের অপেক্ষা করুন।
৫. নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাবেন না
সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি চিকিৎসাসেবার সহায়তা নিন। এতে হাসপাতালে যাওয়ার পথেই চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ থাকে।
রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে কী করবেন?
হার্ট অ্যাটাকের কারণে কখনো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রোগী অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত জরুরি সহায়তা ডাকুন।
রোগী সাড়া দিচ্ছেন কি না পরীক্ষা করুন।
স্বাভাবিক শ্বাস না থাকলে দ্রুত সিপিআর (CPR) শুরু করুন।
প্রশিক্ষণ না থাকলেও বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিতে থাকুন। প্রতি মিনিটে ১০০–১২০ বার চাপ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
কাছে অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED) থাকলে সেটি ব্যবহার করুন এবং যন্ত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
চিকিৎসাসহায়তা না আসা পর্যন্ত সিপিআর চালিয়ে যান।
জোরে জোরে কাশি দিলে কি হার্ট অ্যাটাক থামে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় বলা হয়, হার্ট অ্যাটাক হলে জোরে জোরে কাশি দিলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু এটি প্রচলিত একটি ভুল ধারণা। কাশি দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা করা যায়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে কাশি দিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। এ জন্য—
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন।
রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক ব্যায়াম করুন।
অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খান।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকে অস্বাভাবিক চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ঠান্ডা ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করাই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কোন মন্তব্য নেই