চমক, স্টাইল আর রোমান্টিকতায় দুর্ধর্ষ ক্রেগের বিদায়
ব্রিটিশ চলচ্চিত্র বিশ্লেষক পিটার ব্রাডশ নো টাইম টু ডাইয়ের রিভিউ লিখেছেন দ্য গার্ডিয়ানে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২৫তম জেমস বন্ড ছবি নিয়ে দর্শকের উৎসাহ ও প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। তার ওপরে এটিই ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ ছবি। মহামারীর কবলে পড়ে ছবির মুক্তি পিছিয়েছে দেড় বছর। দর্শক অপেক্ষা করতে করতে যেন ক্লান্ত। কিন্তু কথায়ই তো আছে, সবুরে মেওয়া ফলে। জেমস বন্ডের ক্ষেত্রে ঘটলও ঠিক তা-ই। দর্শককের চাহিদার চেয়েও বেশি কিছু থাকল জেমস বন্ডের নতুন অ্যাডভেঞ্চারে। প্রথম দৃশ্যেই পুরো ছবির ঝলক পাওয়া গেল। রোমান্স, অ্যাকশন, বিস্ফোরণ ও বিশ্বাসঘাতকতা—কী নেই নো টাইম টু ডাইয়ে? সিনেমার পর্দা থেকে নজর ফেরাতে পারবেন না দর্শক। এখন পর্যন্ত যত বন্ড সিনেমা হয়েছে, তার মধ্যে দীর্ঘতম এই নো টাইম টু ডাই। পুরো সিনেমার ব্যাপ্তি ২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। কিন্তু দর্শকের বিরক্ত হওয়ার প্রশ্নই আসে না; বরং পুরো সিনেমা দেখার পর মনে হবে যেন কেবল অর্ধেক সিনেমা দেখেছেন।
ব্রিটিশ গুপ্তচরের ভূমিকায় ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ সিনেমাটি হয়ে রইল বুদ্ধিমত্তা, সাহস, সহিংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ আর প্রেমের পোস্টার। আছে পুরনো বন্ডের মতো পর্যাপ্ত সফটনেস। অ্যাকশন কমেডি বন্ডকে দিয়েছে অন্য মাত্রা। পরিচালক ক্যারি ফুকুনাগা ও স্ক্রিপ্ট রাইটার একের পর এক টুইস্ট দিয়ে দর্শককে করেছেন বিভ্রান্ত। আর তাই নো টাইম টু ডাইকে বলা যায় রোমান্টিক বন্ড, অস্থির বন্ড, স্থির বন্ড। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের লেখায় নেয়াল পারভিস ও রবার্ট ওয়েডের স্ক্রিনপ্লে সিনেমাটিকে দিয়েছে অনবদ্য কাব্যিকতা।
ট্রেলারেই দেখা গিয়েছিল জেমস বন্ড একটি সেতু থেকে লাফ দিচ্ছেন। শেষ সিনেমা বলেই হয়তো এমন অসংখ্য দর্শনীয় স্টান্ট নিজেই করেছেন বন্ড। স্কাইফলের ভিলেন রামি মালেকের কথা মনে আছে? যার সঙ্গে বন্ডের ব্যক্তিগত শক্রতা রয়েছে। রামি মালেক কতটা নৃশংসতা নিয়ে ফিরতে পারে বন্ড ভক্তদের তা অজানা নয়। সে হয়তো দর্শকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাবে। ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ বন্ড ছবি স্মরণীয় করে তোলার সব রকম চেষ্টাই করা হয়েছে। চমক তো আছেই। জিরো জিরো সেভেন এজেন্টের দায়িত্বে নোমির আবির্ভাবে দর্শকের মনে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। তবে কি বন্ডের জমানা শেষ? ছবির কেন্দ্রে রয়েছে ডিএনএ ও জেনোসাইডের থিম। ক্রেগ ভক্তদের জন্য এ ছবি অভিনেতার পক্ষ থেকে বিশাল উপহার বলা যেতেই পারে। নিজের সেরাটা ফুটিয়ে তুলতে উজার করে দিয়েছেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। বন্ডের বিপরীতে দুর্ধর্ষ শত্রু রামি মালিক চরিত্রে হ্যানিবাল এক কথায় অনবদ্য। পরিচালক ক্যারি জোজি ফুকুনাগা ছিলেন বন্ড ভক্তদের জন্য বাড়তি পাওনা। নতুন এজেন্ট জিরো জিরো সেভেনের চরিত্রে লাশানা লিঞ্চ ছিলেন অতুলনীয়। নো টাইম টু ডাই সিনেমা বন্ড সিরিজের সেরা অভিজ্ঞতা।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়। এর পরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ছবির রিভিউ। পিটারের মতো অন্যান্য রিভিউতেও ড্যানিয়েল ক্রেগকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সমালোচকরা। চলচ্চিত্র সমালোচক স্কট ম্যান্টজ টুইটারে লিখেছেন, ‘এটাই ড্যানিয়েল ক্রেগ। শক্তিশালী, অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স। অপেক্ষার ফল পেলাম।’ ছবিটিকে পাঁচ তারকা রেটিং দিয়ে ব্রিটেনের দ্য টাইমস পত্রিকার চলচ্চিত্র সমালোচক লিখেছেন, ‘ভালোর চেয়েও বেশি ভালো। ম্যাগনিফিশেন্ট।’ হলিউড রিপোর্টারের ডেভিড রুনি লিখেছেন, ‘ক্রেইগের স্মরণীয় প্রস্থানে ডুবে আছি। এটি জটিল যে নিজেকে গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবেন।’ ২০০৬ সালে ক্যাসিনো রয়্যাল দিয়ে ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট ‘জেমস বন্ড’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। এই নো টাইম টু ডাই দিয়ে ১৫ বছরের যাত্রার ইতি টানলেন ক্রেগ। সিনেমাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নো টাইম টু ডাই এ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের সব সিনেমার আয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

কোন মন্তব্য নেই