উদ্যোক্তা মানসিকতা যেভাবে জীবন উন্নয়নে সহযোগিতা করে
উদ্যোক্তাদের সব সময় সাধারণ মানুষের থেকে ভিন্ন ভাবা হয়। তারা শারীরিক এবং মানসিক অনন্য শক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যা অন্যান্য সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকে না। তাই তারা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন নতুন নিয়ম নীতি তৈরি করে। আবার নিজেরাই নিয়ম ভাঙ্গে।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম উদ্যোক্তাদের গল্প সাধারণ মানুষের কাছে এলিয়েনের গল্পের মতো মনে হয়, যাদের মস্তিষ্ক, চিন্তা এবং বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আসলে এই ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক। উদ্যোক্তারা মোটেও ভিনগ্রহের প্রাণী নয়, বরং আমরা প্রত্যেকে একই রকম শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। আমরাও চাইলে উদ্যোক্তাদের মতো সফল হতে পারি, ব্যবসা ক্ষেত্রে না হলেও, অন্তত ব্যক্তিজীবনে। তবে এর জন্য প্রয়োজন উদ্যোক্তাদের মতো মানসিকতা। উদ্যোক্তারা যেসব বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং গুণের কারণে সফল হয় সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর চর্চা করা।
রেকজি ল্যাবরেটরিজ এলএলসি’র উদ্যোক্তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ বিষয়ক পরিচালক সরিন ভি. চিরিয়াকের গল্পটাই ধরা যাক। ব্যবসায়ি উদ্যোক্তা হিসেবে অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে ওঠার জন্য তাকে দীর্ঘ ১০ বছরের উদ্যোক্তা জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। তিনি একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর একাধিক সফল স্টার্টআপ শুরু করেন।
সর্বশেষ প্রযুক্তি খাত থেকে মনোযোগ সরিয়ে তিনি প্রসাধনী শিল্পে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তার প্রসাধনী কোম্পানি পূর্ব ইউরোপের প্রধান প্রসাধনী আমদানিকারক এবং সরবরাহকারী ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে। পরে, তিনি রেকজি ল্যাবরেটরিজ এলএলসি’র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর হন।
তিনি বিশ্বাস করেন, উদ্যোক্তা জীবন মানুষের জীবন বোধ এবং ব্যক্তিগত উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে কল্যাণকর দিকগুলো উন্মোচন করতে সহযোগিতা করে।
কিন্তু কীভাবে? চলুন বিস্তারিত আলোচনা থেকে বোঝার চেষ্টা করি।
ইতিবাচক বিশ্বাস
উদ্যোক্তা মানসিকতার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো এই মানসিকতা আপনাকে বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সব কিছু করা সম্ভব, অর্থাৎ উদ্যোক্তা মানসিকতা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বিশ্বাস তৈরি করে।
তবে ইচ্ছা আর বিশ্বাস সম্পূর্ণ বিষয়। সাধারণ মানুষ যেখানে ইচ্ছা পোষণ করে উদ্যোক্তা মানসিকতার মানুষেরা তা বিশ্বাস করে। আপনি যদি কোনো কিছু বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে বিশ্বাস করেন, তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
এই মানসিক বিশ্বাস আপনার কাজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ফলে সুনির্দিষ্ট কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মনোযোগী হওয়া সহজ হয়। এই বিশ্বাস আপনাকে সমস্যা থেকে মনোযোগ সরিয়ে সমাধানের দিকে মনোযোগী হতে উৎসাহ যোগায়।
ব্যর্থতা বনাম অর্জন
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনি এতবার ব্যর্থ হবেন যে ব্যর্থতার সংখ্যা গুনে রাখাও আপনার পক্ষে কঠিন হবে। এমনকি বছরের পর বছর কর্মব্যস্ত দিন শেষে আপনি কোনো লভ্যাংশ খুঁজে পাবেন না। সাফল্য দেরিতে আসে; এমনকি আপনি যতটা দেরি ভাবতে পারেন, কখনো কখনো তার চেয়েও দেরিতে।
কিন্তু উদ্যোক্তারা দিন শেষে লভ্যাংশ হিসাব করার চেয়ে একজন ক্রেতাকে সেবা দেওয়ার বিপরীতে ধন্যবাদ বা শুভেচ্ছা পাওয়ায় বেশি খুশি হয়। এই ছোট ছোট অর্জন তাদের সবসময় অনুপ্রাণিত রাখে। যে কারণে শেষ পর্যন্ত বৃহৎ সাফল্য তাদের পায়ে এসে লুটোপুটি খায়।
মনে রাখবেন, সব বড় অর্জন ধীর গতিতে আসে। মানুষের জীবনও অনুরূপ। আপনি যখনই ছোট ছোট অর্জন এবং প্রাপ্তিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা শুরু করবেন, তখনই আপনার মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচিত হবে। ফলে আপনি ধৈর্য ধরতে শিখবেন এবং যা নেই তার জন্য হা-হুতাশ না করে যা আছে তা ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এই বিশ্বাস এবং প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত আপনাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিবে।
একাকীত্ব বনাম সংঘবদ্ধতা
একজন সফল উদ্যোক্তাকে দেখে সাধারণ মানুষ মনে করে তার সাফল্য অর্জিত হয়েছে কেবল তার একক প্রচেষ্টায়। সাধারণ মানুষের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পৃথিবীতে একা কোনো কিছুই হয় না। সব ধরনের সাফল্যের জন্য অন্যের সহযোগিতা এবং সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন হয়।
আপনি যখনই উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করবেন বা উদ্যোক্তাদের মতো মানসিকতা পোষণ করবেন, তখনই লক্ষ্য করবেন আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য চারপাশে ঘিরে থাকা মানুষের সহযোগিতা কতটা প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ উদ্যোক্তা মানসিকতা মানুষকে অন্যের সহযোগিতা এবং সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব বুঝতে সহযোগিতা করে।
এক বনে একা রাজা হলে নিজের সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বলতা কখনোই উপলব্ধি করা যায় না। সুতরাং একটি ঘরের সবাই যদি আপনাকে সবচেয়ে স্মার্ট ব্যক্তি মনে করে, তাহলে বুঝে নেবেন আপনি ভুল ঘরে প্রবেশ করেছেন। আপনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন ব্যক্তি এবং পরিবেশের সংস্পর্শে গেলে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবেন। ফলে ব্যবসার মতো নিজেকে সুগঠিত এবং পরিপূর্ণ করতে সক্ষম হবেন।
এমনকি আপনার আইডিয়া বা বিশ্বাস সমর্থন করে এমন মানুষের সংস্পর্শও আপনার সমান প্রয়োজন। একই আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে চাওয়া কারো, বা একই মতাদর্শের ভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে গেলে আপনার ধারণা এবং বোধের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার একার পক্ষে কখনোই কাজটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব না। অর্থাৎ সমর্থন বা বৈপরীত্য যেকোনো উপায়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে হলে একাকীত্ব ছেড়ে আপনাকে মানুষের সংস্পর্শে যেতেই হবে।
নিজের কাজে মনোযোগ
সাধারণ মানুষ অন্যের কাজে বেশি মনোযোগী থাকে, অর্থাৎ নিজের উন্নতির স্বার্থে তারা অন্যের কাজ পর্যবেক্ষণ করে এবং তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখে। অন্যের কাজ পর্যবেক্ষণ করা নিঃসন্দেহে ভালো। কেননা সেখান থেকে নতুন অনেক কিছু শেখার থাকে। উদ্যোক্তারাও অন্যান্য উদ্যোক্তার কাজ পর্যবেক্ষণ করে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের সাথে উদ্যোক্তার মৌলিক তফাৎ হলো, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় অন্যের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, কিন্তু উদ্যোক্তারা অযথা সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে মনোযোগী হয়। অন্যের কাজ বা প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন বা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করার ফলাফল আসলে শূন্য।
তাই উদ্যোক্তাদের মতো সময়ের ব্যাপারে সচেতন হোন এবং অন্যের কাজ বা প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
কাজ করা
নতুন কিছু সৃষ্টি করা বা উদ্ভাবনের জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন পৃথিবীতে সিংহভাগ উদ্যোগ নতুন নয়। কিন্তু উদ্যোক্তারা যখন তার নিজের কাজ শুরু করেন তখন পূর্ণ উদ্যমে নতুন হিসাবেই শুরু করেন। সুতরাং যেকোনো কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গবেষণা করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু সৃষ্টি করার প্রবণতা ত্যাগ করুন।
কোনো আইডিয়া বা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাইলে দ্রুত শুরু করে দিন এবং ধাপে ধাপে আপনার প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করুন। আপনি যে সমস্যা বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে চান, অন্য কেউ একই বিষয় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হতে পারে। সুতরাং দেরি করলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। মনে রাখবেন কখনো কখনো নিখুঁত হওয়ার চেয়ে প্রথম হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম উদ্যোক্তাদের গল্প সাধারণ মানুষের কাছে এলিয়েনের গল্পের মতো মনে হয়, যাদের মস্তিষ্ক, চিন্তা এবং বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আসলে এই ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক। উদ্যোক্তারা মোটেও ভিনগ্রহের প্রাণী নয়, বরং আমরা প্রত্যেকে একই রকম শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। আমরাও চাইলে উদ্যোক্তাদের মতো সফল হতে পারি, ব্যবসা ক্ষেত্রে না হলেও, অন্তত ব্যক্তিজীবনে। তবে এর জন্য প্রয়োজন উদ্যোক্তাদের মতো মানসিকতা। উদ্যোক্তারা যেসব বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং গুণের কারণে সফল হয় সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর চর্চা করা।
রেকজি ল্যাবরেটরিজ এলএলসি’র উদ্যোক্তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ বিষয়ক পরিচালক সরিন ভি. চিরিয়াকের গল্পটাই ধরা যাক। ব্যবসায়ি উদ্যোক্তা হিসেবে অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে ওঠার জন্য তাকে দীর্ঘ ১০ বছরের উদ্যোক্তা জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। তিনি একজন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর একাধিক সফল স্টার্টআপ শুরু করেন।
সর্বশেষ প্রযুক্তি খাত থেকে মনোযোগ সরিয়ে তিনি প্রসাধনী শিল্পে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তার প্রসাধনী কোম্পানি পূর্ব ইউরোপের প্রধান প্রসাধনী আমদানিকারক এবং সরবরাহকারী ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে। পরে, তিনি রেকজি ল্যাবরেটরিজ এলএলসি’র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর হন।
তিনি বিশ্বাস করেন, উদ্যোক্তা জীবন মানুষের জীবন বোধ এবং ব্যক্তিগত উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে কল্যাণকর দিকগুলো উন্মোচন করতে সহযোগিতা করে।
কিন্তু কীভাবে? চলুন বিস্তারিত আলোচনা থেকে বোঝার চেষ্টা করি।
ইতিবাচক বিশ্বাস
উদ্যোক্তা মানসিকতার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো এই মানসিকতা আপনাকে বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সব কিছু করা সম্ভব, অর্থাৎ উদ্যোক্তা মানসিকতা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বিশ্বাস তৈরি করে।
তবে ইচ্ছা আর বিশ্বাস সম্পূর্ণ বিষয়। সাধারণ মানুষ যেখানে ইচ্ছা পোষণ করে উদ্যোক্তা মানসিকতার মানুষেরা তা বিশ্বাস করে। আপনি যদি কোনো কিছু বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে বিশ্বাস করেন, তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
এই মানসিক বিশ্বাস আপনার কাজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ফলে সুনির্দিষ্ট কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মনোযোগী হওয়া সহজ হয়। এই বিশ্বাস আপনাকে সমস্যা থেকে মনোযোগ সরিয়ে সমাধানের দিকে মনোযোগী হতে উৎসাহ যোগায়।
ব্যর্থতা বনাম অর্জন
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনি এতবার ব্যর্থ হবেন যে ব্যর্থতার সংখ্যা গুনে রাখাও আপনার পক্ষে কঠিন হবে। এমনকি বছরের পর বছর কর্মব্যস্ত দিন শেষে আপনি কোনো লভ্যাংশ খুঁজে পাবেন না। সাফল্য দেরিতে আসে; এমনকি আপনি যতটা দেরি ভাবতে পারেন, কখনো কখনো তার চেয়েও দেরিতে।
কিন্তু উদ্যোক্তারা দিন শেষে লভ্যাংশ হিসাব করার চেয়ে একজন ক্রেতাকে সেবা দেওয়ার বিপরীতে ধন্যবাদ বা শুভেচ্ছা পাওয়ায় বেশি খুশি হয়। এই ছোট ছোট অর্জন তাদের সবসময় অনুপ্রাণিত রাখে। যে কারণে শেষ পর্যন্ত বৃহৎ সাফল্য তাদের পায়ে এসে লুটোপুটি খায়।
মনে রাখবেন, সব বড় অর্জন ধীর গতিতে আসে। মানুষের জীবনও অনুরূপ। আপনি যখনই ছোট ছোট অর্জন এবং প্রাপ্তিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা শুরু করবেন, তখনই আপনার মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচিত হবে। ফলে আপনি ধৈর্য ধরতে শিখবেন এবং যা নেই তার জন্য হা-হুতাশ না করে যা আছে তা ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এই বিশ্বাস এবং প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত আপনাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিবে।
একাকীত্ব বনাম সংঘবদ্ধতা
একজন সফল উদ্যোক্তাকে দেখে সাধারণ মানুষ মনে করে তার সাফল্য অর্জিত হয়েছে কেবল তার একক প্রচেষ্টায়। সাধারণ মানুষের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পৃথিবীতে একা কোনো কিছুই হয় না। সব ধরনের সাফল্যের জন্য অন্যের সহযোগিতা এবং সংঘবদ্ধতার প্রয়োজন হয়।
আপনি যখনই উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করবেন বা উদ্যোক্তাদের মতো মানসিকতা পোষণ করবেন, তখনই লক্ষ্য করবেন আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য চারপাশে ঘিরে থাকা মানুষের সহযোগিতা কতটা প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ উদ্যোক্তা মানসিকতা মানুষকে অন্যের সহযোগিতা এবং সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব বুঝতে সহযোগিতা করে।
এক বনে একা রাজা হলে নিজের সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বলতা কখনোই উপলব্ধি করা যায় না। সুতরাং একটি ঘরের সবাই যদি আপনাকে সবচেয়ে স্মার্ট ব্যক্তি মনে করে, তাহলে বুঝে নেবেন আপনি ভুল ঘরে প্রবেশ করেছেন। আপনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন ব্যক্তি এবং পরিবেশের সংস্পর্শে গেলে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবেন। ফলে ব্যবসার মতো নিজেকে সুগঠিত এবং পরিপূর্ণ করতে সক্ষম হবেন।
এমনকি আপনার আইডিয়া বা বিশ্বাস সমর্থন করে এমন মানুষের সংস্পর্শও আপনার সমান প্রয়োজন। একই আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে চাওয়া কারো, বা একই মতাদর্শের ভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে গেলে আপনার ধারণা এবং বোধের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ফলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার একার পক্ষে কখনোই কাজটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব না। অর্থাৎ সমর্থন বা বৈপরীত্য যেকোনো উপায়ে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে হলে একাকীত্ব ছেড়ে আপনাকে মানুষের সংস্পর্শে যেতেই হবে।
নিজের কাজে মনোযোগ
সাধারণ মানুষ অন্যের কাজে বেশি মনোযোগী থাকে, অর্থাৎ নিজের উন্নতির স্বার্থে তারা অন্যের কাজ পর্যবেক্ষণ করে এবং তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখে। অন্যের কাজ পর্যবেক্ষণ করা নিঃসন্দেহে ভালো। কেননা সেখান থেকে নতুন অনেক কিছু শেখার থাকে। উদ্যোক্তারাও অন্যান্য উদ্যোক্তার কাজ পর্যবেক্ষণ করে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের সাথে উদ্যোক্তার মৌলিক তফাৎ হলো, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় অন্যের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, কিন্তু উদ্যোক্তারা অযথা সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে মনোযোগী হয়। অন্যের কাজ বা প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন বা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করার ফলাফল আসলে শূন্য।
তাই উদ্যোক্তাদের মতো সময়ের ব্যাপারে সচেতন হোন এবং অন্যের কাজ বা প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
কাজ করা
নতুন কিছু সৃষ্টি করা বা উদ্ভাবনের জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন পৃথিবীতে সিংহভাগ উদ্যোগ নতুন নয়। কিন্তু উদ্যোক্তারা যখন তার নিজের কাজ শুরু করেন তখন পূর্ণ উদ্যমে নতুন হিসাবেই শুরু করেন। সুতরাং যেকোনো কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গবেষণা করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু সৃষ্টি করার প্রবণতা ত্যাগ করুন।
কোনো আইডিয়া বা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাইলে দ্রুত শুরু করে দিন এবং ধাপে ধাপে আপনার প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করুন। আপনি যে সমস্যা বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে চান, অন্য কেউ একই বিষয় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হতে পারে। সুতরাং দেরি করলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন। মনে রাখবেন কখনো কখনো নিখুঁত হওয়ার চেয়ে প্রথম হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই