পশ্চিমা দেশগুলোয় শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

পশ্চিমা দেশগুলোয় শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে


বিশ্বজুড়ে বাড়ছে লিভারের প্রদাহজনিত হেপাটাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশেষ করে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের গবেষকরা এখন এর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন।


রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৩০টির বেশি হেপাটাইটিস রোগী শনাক্তের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যেই ১০৮টি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনেও কিছুসংখ্যক হেপাটাইটিস রোগী পাওয়া গিয়েছে।


মৃদু হেপাটাইটিসের কথা সাধারণত খুব বেশি শোনা যায় না। প্রথমবারের মতো ৬ এপ্রিল স্কটল্যান্ডে এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। শিশুরা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিষয়টি চোখে লাগে। এর মধ্যে অনেকের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর প্রয়োজনও দেখা দেয়।


সাধারণত হেপাটাইটিসের পাঁচটি ধরন দেখা যায়। এগুলো হলো এ, বি, সি, ডি ও ই। কিন্তু শিশুদের মধ্যে যে ভাইরাসটির সংক্রমণ দেখা দেয় সেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল অন্য রকম। সে কারণেই এ প্রদাহ নিয়ে উত্কণ্ঠা তৈরি হয়।


বার্সেলোনার হেপাটোলজির অধ্যাপক ও ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারস পাবলিক হেলথ কমিটির প্রধান মারিয়া বুটি বলেন, এটা ঠিক যে এখনো সংক্রমণের পরিমাণ অত্যন্ত কম। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তারা শিশু। সেটাই উত্কণ্ঠার মূল কারণ।


সাধারণত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঠাণ্ডা-সর্দির মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। মূলত অ্যাডেনোভাইরাসের যে লক্ষণ সেগুলোই প্রাথমিকভাবে দেখা যায়। যেমন জ্বর, গলাব্যথা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি। পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহের জন্য মূলত এক ধরনের অ্যাডেনোভাইরাস দায়ী। সে কারণে দেখা যেত যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়। এর আগে কখনো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী শিশুদের আক্রান্ত হতে দেখা যায়নি।


স্কটল্যান্ডের পাবলিক হেলথের পরিচালক জিম ম্যাকমেনামিন জানান, ৭৭ শতাংশ ব্রিটিশ শিশুর শরীরে অ্যাডেনোভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। যেহেতু ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে এটি ছড়াচ্ছে, তাই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে সংক্রমণ আরো ছড়াবে।


তবে এর সঙ্গে কভিড-১৯ রোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ব্রিটেনের যে শিশুদের হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হতে দেখা গিয়েছে তারা কেউই টিকা নেয়নি। কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, মহামারীর কারণে একটা দীর্ঘ সময় সামাজিক মেলামেশা বন্ধ ছিল। আর এতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়েছে। এটাও হেপাটাইটিস বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।


যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের কোনো শিশুর মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসকদের অ্যাডেনোভাইরাসের পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। লক্ষণের মধ্যে রয়েছে গাঢ় রঙের প্রস্রাব, সিকনেস, ফ্যাটিগ, জ্বর, ক্ষুধামান্দ্য, বমি, পেটব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা ইত্যাদি।


রোগটির এখনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও নির্দিষ্ট চিকিৎসা করা গেলে এবং স্টেরয়েড-জাতীয় কিছু ওষুধ খেলে এটি নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। দেশগুলোর বাবা-মায়েদের শিশুদের লক্ষণগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকর্মী বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।


হেপাটাইটিসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে। যেমন হাঁচি, কাশি বা সর্দির জন্য টিস্যু কিংবা রুমাল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দেখতেও পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

কোন মন্তব্য নেই