অভিনয়কে পারিবারিক ব্যবসা মনে করেন টম হ্যাঙ্কস
এ মাসে মুক্তি পেয়েছে টম হ্যাঙ্কস অভিনীত সিনেমা ‘আ ম্যান কলড ওটো’। মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে সিনেমাটি। এর মধ্যেই হলিউডে শুরু হয়েছে নেপোটিজম বিতর্ক। সে বিতর্কের লক্ষ্য হয়েছেন টম হ্যাঙ্কস। আ ম্যান কলড ওটোতে হ্যাঙ্কসের চরিত্রের নাম ওটো অ্যান্ডারসন। এ চরিত্রে ছেলেবেলার অংশে অভিনয় করেছেন টম হ্যাঙ্কসের ছেলে ট্রুম্যান হ্যাঙ্কস। এ প্রসঙ্গেই টম হ্যাঙ্কস ও তার ছেলে ট্রুম্যানকে নিয়ে নেপোটিজম বিতর্কের আগুনে ঘি পড়েছে। ট্রুম্যান বা অন্যান্য তারকা পিতা-মাতার সন্তানদের ‘ নেপো বেবি’ বলে বিদ্রূপ করা হচ্ছে। শেষমেশ একটি সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন টম হ্যাঙ্কস।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সানের সঙ্গে কথোপকথনে হ্যাঙ্কস বলেন, ‘ দেখুন, এটা অনেকটাই পারিবারিক ব্যবসার মতো। আমরা তো এটাই করে আসছি সবসময়। এর (অভিনয়) মধ্যে দিয়েই আমাদের সন্তানরা বেড়ে ওঠে। আমি যদি প্লাম্বার হতাম বা সেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতাম কিংবা পথের পাশে আমার একটা ফুলের দোকান থাকত, তাহলেও কোনো না কোনোভাবে পুরো পরিবার এতে যুক্ত হতো।’ তিনি এখানেই শেষ করেননি। টম যুক্তি দিয়েছেন যে যোগাযোগ বা সুবিধা পেয়ে কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে আসতেই পারে, কিন্তু সেখানে সফলতা বা টিকে থাকার জন্য নিজের যোগ্যতার বলেই কাজটি করে যেতে হবে।
টম বলেন, ‘ যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো কাজটা তুমি করতে পারছ কিনা। কোথা থেকে একজন অভিনেতা আসছে, তার পদবি কী (অর্থাৎ পারিবারিক পরিচয়) তা কোনো ভূমিকা পালন করবে না। আমরা সবসময়েই একটা সুন্দর গল্প চাই। আমাদের প্রতিবার দর্শকের জন্য একটা গল্প তৈরি করে তা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হয়, যেটার একটা শুরু থাকে এবং একটি সুন্দর সমাপ্তিতে শেষ হয়। এক্ষেত্রে সফলতা নিজের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।’ টমের এ কথার অর্থ হচ্ছে কোনো অভিনেতা একটি গল্পে কাজ করার ক্ষেত্রে সেটিকে দর্শকের সামনে উপস্থাপনে সেরা ভূমিকাটি পালন করতে হয়। এটি তিনি করতে পারলেই সফলতা লাভ করবেন।
গোল্ডি হন ও বিল হাডসনের কন্যা কেট হাডসন। তার সর্বশেষ অভিনীত সিনেমা গ্লাস অনিয়ন। তিনিও নেপোটিজম বিতর্কে ‘ নেপো বেবি’ বা এ ধরনের বিদ্রূপকে উড়িয়ে দিয়েছেন। কেট বলেন, ‘এসব অভিযোগ, বিশেষত নেপোটিজম নিয়ে... সত্যি বলতে আমি দুশ্চিন্তা করি না।’ নিজের পরিবারের বিষয়ে বলতে গিয়ে কেট যুক্ত করেন, ‘আমি আমার সন্তানদের দিকে যখন তাকাই আমার মনে হয় আমাদের পরিবারটি গল্প বলতে পছন্দ করে। এটা আমাদের রক্তেই আছে। যারা বিদ্রূপ করে তারা বিষয়টিকে চাইলে যেকোনো নামই দিতে পারে। তাতে তো আমাদের কিছুই বদলাবে না।’
নাইভস আউটের সিকুয়াল গ্লাস ওনিয়ন মুক্তি পেয়েছে গত বছর। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি দর্শকপ্রিয় হয়েছে। অন্যদিকে আ ম্যান কলড ওটো সুইডেনের পটভূমিতে লেখা ফ্রেডরিক বার্কম্যানের ‘আ ম্যান কলড ওভ’ অবলম্বনে নির্মিত। এছাড়া গত বছর মুক্তি পাওয়া এলভিসের জন্য পার্শ্ব চরিত্রে টম হ্যাঙ্কসের অস্কার পাওয়া নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই