পাঁচজনের প্রাণ বাঁচিয়ে না ফেরার দেশে দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক বেক সে-হি
![]() |
| ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত |
পাঁচজনের প্রাণ বাঁচিয়ে না ফেরার দেশে দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক বেক সে-হি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | টাইমস এক্সপ্রেস ২৪
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, শুক্রবার
বিশ্বজুড়ে আলোচিত আত্মকথামূলক বই ‘আই ওয়ান্ট টু ডাই বাট আই ওয়ান্ট টু ইট টটবক্কি’–এর লেখক দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় লেখক বেক সে-হি আর নেই। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে এই প্রতিভাবান লেখক মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট বেক সে-হির মৃত্যুর খবর জানায়। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ডোনেশন এজেন্সি জানায়, মৃত্যুর পর বেক নিজের হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, লিভার ও দুই কিডনি দান করেছেন—যা পাঁচজন মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে।
সংস্থার পরিচালক লি সাম ইয়ল এক বিবৃতিতে বলেন,
“জীবনের শেষ মুহূর্তেও বেক সে-হি ভালোবাসা ও আশার আলো ছড়িয়ে গেছেন। তাঁর দান অন্যদের জীবনে নতুন আলো জ্বালিয়েছে।”
বেকের ছোট বোন বেক দা-হি আবেগভরা বার্তায় বলেন,
“আমার বোন লেখার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে চেয়েছিল। সে কাউকে ঘৃণা করতে পারত না। আশা করি, এখন সে শান্তিতে থাকবে।”
১৯৯০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংগি প্রদেশে জন্ম নেওয়া বেক সে-হি বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃজনশীল লেখালেখি অধ্যয়ন করেন। প্রকাশনা সংস্থায় কাজের সময় তাঁর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা (ডিসথাইমিয়া) ধরা পড়ে। প্রায় এক দশক ধরে চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর বইয়ের মূল অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘আই ওয়ান্ট টু ডাই বাট আই ওয়ান্ট টু ইট টটবক্কি’ বইটি দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে এটি ২৫টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয় এবং বিক্রি হয় ২০ লাখেরও বেশি কপি। ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিকভাবেও বইটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।
‘টটবক্কি’ একটি জনপ্রিয় কোরীয় খাবার, যা চালের কেক দিয়ে তৈরি হয়। বইটির শিরোনামই প্রতিফলিত করে বেকের জীবনের দ্বৈত টানাপোড়েন—মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা ও জীবনের প্রতি ভালোবাসা।
২০২৪ সালে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেক বলেন,
“আমি নিজের মৃত্যু পরিকল্পনা করছিলাম, কিন্তু হঠাৎ ক্ষুধা পেলাম, তাই টটবক্কি খেয়ে ফেললাম।”
তাঁর সহজ অথচ গভীর লেখনশৈলী কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের কাছে মানসিক স্বাস্থ্যের আলোচনাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছিল। বেক সে-হি ছিলেন আধুনিক কোরিয়ান নারীদের সেই কণ্ঠস্বর, যারা নিজের যন্ত্রণাকে কলমের মাধ্যমে আশায় রূপ দেন।

কোন মন্তব্য নেই