কম্বোডিয়ায় সাইবার জালিয়াতি: দেশে ফিরেই গ্রেফতার ৬৪ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক
![]() |
| ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত |
কম্বোডিয়ায় সাইবার জালিয়াতি: দেশে ফিরেই গ্রেফতার ৬৪ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক
সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কম্বোডিয়ায় আটক ৬৪ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে দেশে ফেরার পরপরই গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া পুলিশ। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ইনচিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ওই ৬৪ জনকে কম্বোডিয়া থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে আনা হয়। আগমনের পরই তাদেরকে অপরাধী সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হচ্ছে।
এ ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন চলতি বছর কম্বোডিয়ায় এক কোরীয় কলেজ ছাত্রের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপক জনরোষ দেখা দেয়। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, ওই হত্যাকাণ্ড একটি অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
জাতীয় তদন্ত কার্যালয়ের প্রধান পার্ক সুং-জু জানান, প্রত্যাবাসিত নাগরিকরা ভয়েস ফিশিং, প্রেম কেলেঙ্কারি এবং ‘নো-শো’ জালিয়াতি প্রকল্পসহ নানা ধরনের প্রতারণায় জড়িত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজনদের মধ্যে কেউ কেউ স্বেচ্ছায়, আবার কেউ অপরাধী গোষ্ঠীর জোরাজুরিতে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছিলেন।
দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম জিনা কম্বোডিয়া সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সাইবার অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কম্বোডিয়ায় বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত প্রায় এক হাজার কোরীয় নাগরিক থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম্বোডিয়া সাইবার জালিয়াতির একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ শিল্প থেকে বছরে কোটি কোটি ডলার আয় করছে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রগুলো— যেখানে হাজারো মানুষ অনলাইনে প্রতারণায় জড়িত, কেউ স্বেচ্ছায়, আবার কেউ বাধ্য হয়ে।

কোন মন্তব্য নেই