চীনের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান: একসঙ্গে বরখাস্ত ৯ জেনারেল, তদন্তে দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
চীনের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান: একসঙ্গে বরখাস্ত ৯ জেনারেল, তদন্তে দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা
সংবাদ প্রতিবেদন:
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | টাইমস এক্সপ্রেস ২৪
চীনের সেনাবাহিনীতে শুরু হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম বড় শুদ্ধি অভিযান। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি একযোগে নয়জন শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হি ওয়েইডং।
এই ঘটনাকে চীনের সামরিক ইতিহাসে এক বিরল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের অনেকে একে শুধু দুর্নীতি দমন নয়, বরং রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কারা বরখাস্ত হয়েছেন
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগে এই ৯ জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন—
-
সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান হি ওয়েইডং,
-
রাজনৈতিক বিভাগের পরিচালক মিয়াও হুয়া,
-
নির্বাহী উপপরিচালক হে হংজুন,
-
জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড সেন্টারের নির্বাহী উপপরিচালক ওয়াং জিউবিন,
-
ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডার লিন জিয়াংইয়াং,
-
সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার কিন শুতং,
-
নৌবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার ইয়ুআন হুয়াজি,
-
রকেট ফোর্সেস কমান্ডার ওয়াং হৌবিন,
-
এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স কমান্ডার ওয়াং চুনিং।
তদন্তের মুখে চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা
এই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত নাম হি ওয়েইডং, যিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পর সিএমসির দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গত মার্চের পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি, যা তার বিরুদ্ধে তদন্তের জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, বরখাস্ত কর্মকর্তারা দলের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে তারা সামরিক আদালতের বিচারের মুখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো নেইর থমাস বলেন, “এই অভিযান শুধু দুর্নীতি দমন নয়, বরং শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা সংহত করার অংশ।”
তার মতে, শি দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণের মাধ্যমে পার্টিকে আরও শৃঙ্খলিত ও স্থিতিশীল করতে চাইছেন।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই শুদ্ধিকরণ চীনের প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
চীনা পার্টির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হবে ২০ অক্টোবর, যেখানে এই বরখাস্তের প্রভাব এবং সেনাবাহিনীর নতুন নেতৃত্ব কারা নেবেন—তা নিয়ে সবার নজর থাকবে।
সারসংক্ষেপ:
দুর্নীতি দমন অভিযান হিসেবে শুরু হলেও, নয় জেনারেলের একযোগে বরখাস্ত চীনের রাজনীতিতে এক নতুন ক্ষমতার পুনর্গঠন সূচিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন মন্তব্য নেই