অবৈধ আয়: ইসলাম যেভাবে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে - TIMES EXPRESS | টাইমস এক্সপ্রেস is an interactive news portal

নিউজ ফাস্ট

অবৈধ আয়: ইসলাম যেভাবে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে

 

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

অবৈধ আয়: ইসলাম যেভাবে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকেল ৪:২৩ | টাইমস এক্সপ্রেস ২৪

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বৈধ উপায়ে রুজির ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু আজ মানুষ আল্লাহর আদেশ ও পরকালের জবাবদিহি ভুলে অবৈধ পথে সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ঘুষ, দুর্নীতি, সুদ, চুরি–ডাকাতি, দখলবাজি—এসবই ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“তোমরা নিজেদের মধ্যে অন্যায়ের মাধ্যমে একে অপরের সম্পদ গ্রাস করো না এবং বিচারকের কাছে টোপ হিসেবে উপস্থাপন করো না।”
(সুরা আল–বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

আজ সমাজে দেখা যাচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারী পর্যন্ত অনেকে বৈধ আয়ের পরও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত। দুর্নীতি ও ঘুষের এই সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

ইসলাম শুধু অবৈধ আয়কে নিষিদ্ধ করেনি, বরং এ বিষয়ে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

“যে ব্যক্তি কারও জমি এক বিঘত পরিমাণ অন্যায়ভাবে দখল করবে, কেয়ামতের দিন সাত স্তর জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”
(সহিহ বুখারি)

 সুদ ও অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে সতর্কবাণী

আজকাল অনেকে সুদ খেয়ে বা সুদের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ইসলাম এ বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা দ্বিগুণের ওপর দ্বিগুণ সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো।”
(সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও সাক্ষী—সবাই সমান অপরাধী।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১৭৭)

অন্যদিকে যারা চুরি–ডাকাতি ও দখলবাজির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ অর্জন করে, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেন—

“পুরুষ চোর ও নারী চোর—উভয়ের হাত কেটে দাও, এটি তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় শাস্তি।”
(সুরা মায়িদাহ, আয়াত: ৩৮)

 অর্থলোভের পরিণতি

যারা সম্পদ জমিয়ে রাখে এবং তা গণনা করে অহংকার করে, তাদের জন্য ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা দিয়েছেন মহান আল্লাহ—

“সে মনে করে, তার অর্থ চিরকাল থাকবে! কখনও না, তাকে নিক্ষেপ করা হবে পিষ্টকারীর মধ্যে—যা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি।”
(সুরা হুমাযাহ, আয়াত: ২–৯)

উপসংহার

অবৈধ উপার্জন শুধু মানুষকেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো বৈধ উপায়ে রুজি উপার্জন করা ও হারাম আয় থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে অবৈধ আয় ও পাপাচার থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

কোন মন্তব্য নেই