হাড়ক্ষয় রোধে আগাম সচেতনতা জরুরি, সুস্থ হাড়ের জন্য মানতে হবে যেসব নিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদক | Times Express 24
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। তবে হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস কেবল বার্ধক্যের সমস্যা নয়। ছোটবেলা থেকে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস। এ বছর দিবসটির মূল গুরুত্ব হলো জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করা। শৈশবে মজবুত হাড় গঠন, তরুণ বয়সে হাড়ের শক্তি ধরে রাখা এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ক্ষয় প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন সময়মতো সচেতন হওয়া।
নীরবে দুর্বল হয় হাড়, বিপদ বোঝা যায় দেরিতে
অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ, যাতে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যায়। ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাতেও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাড় ভাঙার আগে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এ কারণে রোগটিকে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
মেনোপজের পর নারীদের এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, পুষ্টির ঘাটতি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা ওষুধের কারণেও হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হাড় দুর্বল হয়ে গেলে কবজি, মেরুদণ্ড কিংবা ঊরুর হাড় ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা এবং দৈনন্দিন কাজে অন্যের সহায়তার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।
মজবুত হাড় গড়তে খাবারে রাখতে হবে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন
হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। দুধ, দই, কাঁটাসহ খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ, ডাল, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
পাশাপাশি ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। নিরাপদ উপায়ে সূর্যের আলো গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ভিটামিন ডির চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে সবার প্রয়োজন এক নয়; ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামে উপকার
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও প্রয়োজন। হাঁটা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা এবং বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ওজন বহনকারী ব্যায়াম হাড়ের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
যাঁরা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাঁদের প্রতিদিনের রুটিনে হাঁটা ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
কখন হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা প্রয়োজন?
বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। ডেক্সা (DEXA) স্ক্যানের মাধ্যমে হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়। বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যাঁদের সামান্য আঘাতে হাড় ভাঙার ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা উচিত।
অস্টিওপোরোসিস শনাক্ত হলে চিকিৎসা দেরি না করে শুরু করা জরুরি। রোগের মাত্রা ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ, পুষ্টি এবং ব্যায়ামসংক্রান্ত পরামর্শ দিতে পারেন। নিজে থেকে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডির উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।
হাড় ভালো রাখতে প্রতিদিনের করণীয়
হাড়ের যত্নে কয়েকটি অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উপকার দিতে পারে—
নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান।
নিরাপদ উপায়ে সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।
প্রতিদিন হাঁটুন এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম করুন।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
বাড়িতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে মেঝে পরিষ্কার রাখুন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করুন।
হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করান।
সচেতনতাই পারে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে
হাড়ক্ষয়কে অবহেলা করলে এর প্রভাব শুধু শারীরিক ব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; স্বাভাবিক চলাফেরা, কাজকর্ম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাও ব্যাহত হতে পারে। অথচ ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এ রোগের জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হাড়ের সমস্যা দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই যত্ন নেওয়া। কারণ সুস্থ হাড় শুধু শরীরকে শক্ত রাখে না, বয়স বাড়লেও নিজের মতো করে চলাফেরা করার সক্ষমতা ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Times Express 24-এর স্বাস্থ্যবার্তা: সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসকের পরামর্শ—এই অভ্যাসগুলোই হাড়ের সুস্থতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই